ক্রিকেটখেলাধুলাপ্রধান খবর

ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ

ইতিহাস গড়া হলো না বাংলাদেশের। আবারো ভারতকে ধবলধোলাইয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলো টাইগাররা। চট্টগ্রামে দেখা গেল বাংলাদেশের বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। বিপরীতে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের মুখ দেখলো ভারত। দাপটের সাথেই বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছে বিরাট কোহলিরা। ২২৭ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

৪১০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ১৮২ রান করেই থেমে যায় বাংলাদেশ। তবে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় সিরিজ থাকলো বাংলাদেশেরই।

বড় লক্ষ্যে যেভাবে শুরু করা দরকার, সেভাবেই শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ৪ ওভারেই ৩৩ রান সংগ্রহ করে ফেলে বাংলাদেশ। তবে এরপরই ছন্দপতন, অক্ষর প্যাটেলের শিকার হয়ে এনামুল ফিরেন ৮ রান করে। সিরিজে ৩ ম্যাচে মাত্র ৩৩ রান করেছেন এনামুল। স্কোরবোর্ডে আরো ১৪ রান যোগ করতেই ফিরেন লিটনও। আরো একবার দারুণ শুরু করেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ লিটন। ৪ চার আর ১ ছক্কায় ফিরেন ২৬ বলে ২৯ রান করে।

লিটন দাস ফেরার সাথে সাথেই যেন উদ্দীপনাও হারিয়ে ফেলে দল। যেই আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে শুরু করেছিল লড়াই, তা যেন ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসে। সাকিব-মুশফিক মিলে জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও তা হয়ে সারেনি, ২৬ রানের জুটিতে মাত্র ৭ রান করেই বিদায় নেন মুশফিক। ৩ ম্যাচের এই সিরিজে মাত্র ৩৭ রান করেছেন এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। অতঃপর ইয়াসির আলিকে নিয়ে ৩৪ রানের জুটি গড়েন সাকিব। ইয়াসির ২৫ রান করে বিদায় নিলেও ততক্ষণে তিন অংকের ঘর ছুঁয়ে ফেলেছে দল।

তবে এরপরই কমে আসে রানের গতি। এর মাঝে কুলদিপ যাদবের শিকার হয়ে ফিরেন সাকিব আল হাসানও, আউট হওয়ার আগে সাকিব খেলেন ৪৩ রানের ইনিংস। দাঁড়াতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও, ২০ রান করেই ওয়াশিংটন সুন্দরের শিকার তিনি। আরো ২ রান যোগ করতেই ফিরেন আফিফ হোসেনও। পুরো সিরিজেই ব্যর্থ ছিলেন এই তরুণ তুর্কি। তিন ম্যাচে মাত্র ১৪ রান এসেছে আফিফের ব্যাটে। আগের দুই ম্যাচের জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এদিন আর স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে দেখা দিতে পারেননি। শার্দুল ঠাকুরের শিকার হয়ে ফিরেছেন মাত্র ৩ রানে।

সেই ঠাকুরই ফিরিয়েছেন ইবাদতকেও। সিরিজের দ্বিতীয় ডাক মেরেছেন ইবাদত, তিনটি ওয়ানডে খেলেও রানের খাতা খোলা হয়নি তার। ৬ রানের ভেতর ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ। এদিকে ৯ উইকেট হারিয়ে তখনো দেড় শ’ ছোঁয়া হয়নি বাংলাদেশের, অবশেষে তাসকিনে ভর করে ১৫০ রানের মাইলফলক পাড়ি দেয় বাংলাদেশ। ফের শেষ উইকেট জুটিতে চমক দেখায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি আসে তাসকিন-মোস্তাফিজ থেকে। দুজনে মিলে করেন ৩৩ রানের জুটি। ১৩ রান করে মোস্তাফিজ আউট হলেও ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন। মোস্তাফিজ আউট হলে ১৮২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ নিয়েই থামে ভারতের ইনিংস। নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেটে ৪০৯ রানে থামলো ভারতের ইনিংস। অবশ্য শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। টস জিতে বোলিং নিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পেতে বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। দলীয় পঞ্চম ওভারেই মেহেদী মিরাজ ফিরিয়ে দেন শিখর ধাওয়ানকে। তবে এরপরই জমে উঠে কিশান-কোহলির জুটি। সেই জুটি যখন থামে, ততক্ষণে বেশ কিছু রেকর্ড নতুন করে লেখা হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ২৯০ রানের জুটি ভেঙে ইশান কিশান যখন ফিরলেন, নামের পাশে তখন অজস্র রেকর্ড। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ২৪ চার আর ১০ ছক্কায় ১৩১ বলে ২১০ রান। ক্যারিয়ারের প্রথম শতকটাকেই দ্বিশতকে রূপান্তর করেন কিশান। ৮৫ বলে প্রথম ১০০ সংগ্রহের পর ইশান দ্বিতীয় ১০০ সংগ্রহ করেন মাত্র ৪১ বলে। ফলে ১২৬ বলে ইতিহাসের দ্রুততম দ্বি-শতকের রেকর্ড গড়েন ইশান কিশান। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে নবম দ্বি-শতক করেছেন এই তরুণ তুর্কি। অথচ নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত থাকলে এই ম্যাচে খেলাই হতো না ইশানের।

এদিকে মাত্র ১ রানে লিটনের হাতে জীবন পাওয়া কোহলিও ছুটেছেন ইশানের সাথে পাল্লা দিয়ে। অবশ্য শুরুর দিকে ব্যাকরণ সম্মত ব্যাটিংয়েই মনযোগী ছিলেন কোহলি। তবে সময়ের সাথে সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন তিনি। পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ৭২তম শতকের দেখাও। ৫৪ বলে অর্ধশতক ছোঁয়া কোহলি শতক স্পর্শ করেন মাত্র ৮৫ বলে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর ওয়ানডেতে শতকের দেখা পেয়েছেন কোহলি। তবে শতকের পরপরই সাকিবের শিকার হয়ে ফিরেছেন কোহলি।

ইশান কিশানের পর বিরাট কোহলির আউট হবার আগে আরো দুটো উইকেট শিকার করেছে বাংলাদেশ। ফিরিয়েছে শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুলকে। দু’জনকেই ফিরিয়েছেন ইবাদত। আয়ার ৩ ও রাহুল করেন ৮ রান। দ্রুত ৪ উইকেট হারানোয় ৪৪.১ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩৪৪ রান। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৩৭ বলে আরো ৪৬ রান যোগ করেন অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ১৭ বলে ২০ করে তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার জন অক্ষর। সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হবার আগে ওয়াশিংটন সুন্দর করেন ৩৭ রান।

বোলিং ইনিংসটা যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাইবে বাংলাদেশ। দলের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান। ২ উইকেটের সাথে ইকোনমিও তার ৭-এর নিচে। সাতের নিচে ইকোনমি ছিল মোস্তাফিজেরও, তবে তার শিকার ১ উইকেট। তাসকিন ও ইবাদত দুটো করে উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন অকাতরে। ৯ ওভারে ৮৯ রান দিয়েছেন তাসকিন, সমান সংখ্যক ওভারে ইবাদত দিয়েছেন ৮০ রান। ৭৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button