
জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রলপাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, সারা দেশের পেট্রলপাম্পগুলোর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেল সংগ্রহ করতে এসে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্পে কর্মরত কর্মচারীরাও শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন।
সংগঠনটির দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় যেকোনো সময় দেশের অনেক পেট্রলপাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তারা জানায়, ঈদুল ফিতর-এর আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। অন্য একটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই মজুত কয়েক দিন বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে মব তৈরি করে জোরপূর্বক পেট্রলপাম্প খুলিয়ে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁও-এর একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে তেল লুট করে নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি তেলের ঘাটতির পাশাপাশি পেট্রলপাম্পগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এমনকি ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময় ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পেট্রলপাম্প ও জ্বালানি পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
সূত্র: ইত্তেফাক



