জাতীয়

সীমান্তে ‘পুশইন’ ও ‘পুশব্যাক’: কী, কেন এবং পার্থক্য কোথায়?

সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশইন’ ও ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ‘পুশইন’ এবং ‘পুশব্যাক’ শব্দ দুটি শোনা যায়। দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও ভূরাজনীতির দৃষ্টিতে এদের অর্থ ও প্রভাব ভিন্ন।

পুশব্যাক কী?

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে একটি দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশে প্রবেশ করলে, সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যদি তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে আগের দেশে ফেরত পাঠায়, তাকে ‘পুশব্যাক’ বলা হয়।

সহজভাবে বলতে গেলে, অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তার বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় না নিয়ে সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানোর ঘটনাই পুশব্যাক।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও শরণার্থী সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালার আলোকে পুশব্যাক একটি বিতর্কিত বিষয়। কারণ, ফেরত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নাকি আশ্রয়প্রার্থী- তা যাচাইয়ের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয় না।

পুশইন কী?

‘পুশইন’ হলো পুশব্যাকের বিপরীতধর্মী একটি প্রক্রিয়া। যখন কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থানরত কিছু মানুষকে অন্য দেশের নাগরিক দাবি করে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত পার করে জোরপূর্বক অন্য দেশের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাকে ‘পুশইন’ বলা হয়।

সহজ ভাষায়, “এরা আমাদের দেশের নাগরিক নয়, তোমাদের দেশের লোক”- এমন দাবি তুলে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকেই পুশইন বলা হয়।

সাধারণত গভীর রাত বা সীমান্তের দুর্গম ও কম সুরক্ষিত এলাকা ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা কিংবা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

পুশইন ও পুশব্যাকের মূল পার্থক্য

পুশব্যাকের উদ্দেশ্য হলো নিজ দেশের সীমান্তে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ফেরত পাঠিয়ে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। অন্যদিকে পুশইন হলো কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে পুশইনকে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে পুশব্যাক মানবাধিকার ও শরণার্থী সুরক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের জন্ম দেয়।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘পুশইন’ ও ‘পুশব্যাক’- উভয় বিষয়ই অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে এ ধরনের ঘটনায় কূটনৈতিক সমন্বয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button