ধর্মপ্রধান খবর

যে যে কারণে জীবনে থেকে আল্লাহর রহমত উঠে যায়

পৃথিবীতে আল্লাহর রহমত ছাড়া কারো পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। প্রতি মুহূর্তেই আল্লাহর রহমত বর্ষণ হতে থাকে। তবে যারা আল্লাহর অবাধ্য ও পাপে লিপ্ত তারা এ রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। একইসাথে কিছু কিছু কারণে কারো কারো জীবনে বিদ্যমান রহমতও উঠে যায়।

এসব কারণের একটি হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়া। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রকমের ওজর ছাড়া ফরজ নামাজ ছেড়ে দিলে তার ওপর বিপদাপদ আসতে পারে।

সাহাবি আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘আমার বন্ধু (রাসুল সা.) আমাকে অসিয়ত করেছেন যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না। তোমাকে (কেটে) টুকরো টুকরো করে ফেলা হলেও এবং তোমাকে জ্বালিয়ে ফেলা সত্ত্বেও। আর ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ পরিহার কোরো না। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিলে তার ওপর থেকে (আল্লাহ তায়ালার) দায়িত্ব উঠে যায়’ (ইবনে মাজা : ৪০৩৪)।

এটি থেকে বোঝা যায়, ইচ্ছাকৃতভাবে জেনে-বুঝে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিলে সে আল্লাহর দায়িত্ব ও নিরাপত্তা হতে বের হয়ে যায়। ফলে তার যেকোনো দুরবস্থা ঘটতে পারে।

মানুষের সম্পদে মানুষের হক রাখা হয়েছে। ধনীরা যদি গরিবকে দান-সদকা না করে, তখনও রহমতের বর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। ধন-সম্পদের জাকাত না দিলে বৃষ্টি বন্ধ হবে। বৃষ্টি না হলে শস্য হবে না। পশুপাখি না খেয়ে মরবে।

হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একবার মহানবী (সা.) আমাদের কাছে এলেন। অতঃপর বললেন, যারা নিজের ধন-সম্পদের জাকাত বন্ধ করে দেবে, তাদের জন্য আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ রাখা হবে। এমনকি চতুষ্পদ জন্তু না থাকলে আদৌ বৃষ্টি হবে না’ (ইবনে মাজাহ : ৪০১৯)। দান-সদকার সঙ্গে আল্লাহর রহমতের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। যে মানুষের প্রতি দয়া করবে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। আর এর কষ্ট ভোগ করতে হয় সবাইকে।

আল্লাহর অবাধ্য হলে জালেম শাসক চেপে বসে। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি সব সৃষ্টির উপাস্য, আমাকে ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি রাজন্যবর্গের অধিপতি। সম্রাটদের সম্রাট। রাজাদের অন্তর আমার নিয়ন্ত্রণাধীন। বান্দাগণ যখন আমার আনুগত্য করে, তখন তাদের রাজা-বাদশাহদের অন্তরকে রহমত ও করুণার সমন্বয়ে তাদের দিকে ঘুরিয়ে দিই। আর যখন বান্দারা আমার অবাধ্যতা অবলম্বন করে, তখন রাজা-বাদশাহদের অন্তরকে রাগ ও কঠোরতার দিকে ঝুঁকিয়ে দিই, যার ফলে তারা প্রজাদেরকে কঠিন নিপীড়ন আস্বাদন করায়।’ (হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৩/১৮০)। মানুষের ওপর জালেম ও অত্যাচারী শাসক চাপিয়ে দেওয়া হয় মানুষের অপকর্মের কারণে।

অশ্লীলতা, নগ্নতা, জিনা, ব্যভিচার বেড়ে গেলেও আল্লাহর রহমত উঠে যায়। জিনা-ব্যভিচারের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে জাতির মাঝে ব্যভিচার বিস্তার লাভ করে, তাদেরকে দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে পাকড়াও করা হয়’ (মুসনাদে আহমদ : ১৭৮১২)। আরেকটা বিষয় সুদের সঙ্গে জড়িত হওয়া। সুদের দরুন আল্লাহর আজাব গ্রাস করে।

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যাদের মাঝে ব্যভিচার ও সুদ বিস্তার লাভ করল, তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর আজাব নামিয়ে নিল।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৮০৯)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে ক্ষমা করুন। আমিন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button