আমাদের কথা

বগুড়া লাইভ ডটকম। শুরুটা ২০১১ সালে প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুন্ড্রনগর, ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জনপদ বগুড়া থেকে। একঝাঁক তরুণের মেধা, শ্রম আর সময়ের বিনিয়োগে সংবাদ পরিবেশন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মানের মাধ্যমে অনলাইন নির্ভর প্লাটফর্মটির সুনাম গ্রহণযোগ্যতা বগুড়ার সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে সত্য, খাঁটি এবং নিখুঁত সংবাদ পৌঁছে দিতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বগুড়া লাইভ বদ্ধপরিকর।

বগুড়া শহরে নিজস্ব কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নির্ভুল, তথ্যসমৃদ্ধ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা বগুড়ার অন্যতম অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির একটি চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদকীয় নীতিমালা:

স্বাধীনতা + দায়বদ্ধতা + বিশ্বাসযোগ্যতা = জনস্বার্থের সুরক্ষা
 
আমাদের সংবাদ কার্যক্রম তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত-
 
স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা।
 
এই তিনটির সমন্বয়েই গড়ে উঠবে একটি দায়িত্বশীল, পেশাদার, স্বাধীন ও আস্থাভাজন গণমাধ্যম।
 
আমাদের প্রতিটি সংবাদ, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশনার চূড়ান্ত লক্ষ্য-
 
জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থের সুরক্ষা করা।
 
জনস্বার্থকে আমাদের সম্পাদকীয় কার্যক্রমের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে-
 
দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচনে;
 
জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে;
 
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে;
 
স্থানীয় সমস্যা ও জনগণের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে;
 
প্রান্তিক, অসহায় ও উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর প্রকাশে।
 
কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়িক স্বার্থ বা আর্থিক সুবিধা জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে না।
 
সম্পাদকীয় স্বাধীনতা (Editorial Independence)
 
সংবাদ নির্বাচন ও প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত কোনো চাপ গ্রহণযোগ্য হবে না।
 
মালিকানা, বিজ্ঞাপনদাতা বা স্পন্সরের কোনো প্রভাব সংবাদ বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হবে না।
 
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও সম্পাদকীয় বিভাগের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
 
সম্পাদকই চূড়ান্ত সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষ।
 
সত্যতা ও নির্ভুলতা (Accuracy & Truth)
 
তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না।
 
গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
 
তথ্য ও মতামতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখতে হবে।
 
কোনো তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে দ্রুত, স্পষ্ট ও প্রকাশ্যভাবে সংশোধন করতে হবে।
 
সংশোধনের ক্ষেত্রে মূল ভুল তথ্য গোপন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের বিষয়টি পাঠককে জানাতে হবে।
 
নিরপেক্ষতা ও ভারসাম্য (Impartiality & Balance)
 
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
 
ব্যক্তিগত মতামতকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
 
সংবাদ, মতামত ও বিশ্লেষণ আলাদাভাবে এবং স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকবে।
 
কোনো পক্ষের বক্তব্য না পাওয়া গেলে প্রয়োজনে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
 
মানবিকতা ও সংবেদনশীলতা
 
শিশু, নারী, ভুক্তভোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
 
যৌন নির্যাতন, সহিংসতা, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংবাদে সংযত ও মানবিক ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
 
অপ্রয়োজনীয়ভাবে মরদেহ, রক্তাক্ত দৃশ্য বা সংবেদনশীল ছবি প্রকাশ করা যাবে না।
 
ঘৃণা, বিদ্বেষ, উসকানি বা কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক কনটেন্ট প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
 
আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতা
 
আদালত অবমাননা বা বিচারাধীন বিষয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে- এমন কনটেন্ট প্রকাশ করা যাবে না।
“অভিযুক্ত মানেই দোষী নয়” এই নীতি অনুসরণ করতে হবে।
 
অভিযোগ ও প্রমাণিত সত্যকে একইভাবে উপস্থাপন করা যাবে না।
 
বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বৈষম্যমূলক ভাষা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করতে হবে।
 
সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও পেশাগত নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে।
 
শিরোনাম ও উপস্থাপন নীতি
 
শিরোনাম অবশ্যই তথ্যভিত্তিক, সঠিক ও প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
 
ক্লিকবেইট, বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিরোনাম ব্যবহার করা যাবে না।
 
থাম্বনেইল, ছবি, গ্রাফিক্স বা ভিডিওর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি করা যাবে না।
 
শিরোনামে এমন কোনো তথ্য বা দাবি করা যাবে না, যা মূল প্রতিবেদনে সমর্থিত নয়।
 
ব্রেকিং নিউজ নীতি
 
তথ্য নিশ্চিত না হলে “ব্রেকিং নিউজ” ব্যবহার করা যাবে না।
 
ব্রেকিং নিউজে সম্ভব হলে সময়, স্থান ও তথ্যের উৎস স্পষ্ট করতে হবে।
নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পূর্বের প্রতিবেদনে দ্রুত আপডেট দিতে হবে।
গুজব, যাচাইহীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অনুমানকে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা যাবে না।
দ্রুত প্রকাশের চেয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
 
সোশ্যাল মিডিয়া নীতি
 
সোশ্যাল মিডিয়াতেও একই সম্পাদকীয় নীতি প্রযোজ্য হবে।
 
অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত মতামতকে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান হিসেবে প্রকাশ করা যাবে না।
 
সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পেশাগত আচরণবিধি অনুসরণে উৎসাহিত করা হবে।
 
মন্তব্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য, হুমকি, হয়রানি ও আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর কনটেন্ট
 
সংবাদ ও বিজ্ঞাপন স্পষ্টভাবে পৃথক থাকবে।
 
স্পন্সরড কনটেন্টে স্পষ্টভাবে “স্পন্সরড”, “বিজ্ঞাপন” বা উপযুক্ত পরিচিতি উল্লেখ করতে হবে।
 
বিজ্ঞাপনদাতা বা স্পন্সর কোনো সংবাদ প্রকাশ বা সংবাদ না প্রকাশের শর্ত দিতে পারবেন না।
 
লুকানো বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞাপনকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
 
স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest)
 
রিপোর্টার নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারবেন না।
 
কোনো রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে হলে তা সংশ্লিষ্ট সম্পাদককে জানাতে হবে।
 
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে প্রতিবেদন থেকে সরিয়ে অন্য সাংবাদিককে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
 
ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।
 
পাঠকের অধিকার, সংশোধন ও জবাবদিহিতা
 
পাঠকের জানার অধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
 
পাঠকের অভিযোগ, মতামত ও সংশোধনের অনুরোধ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
 
ভুল হলে দ্রুত সংশোধন ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকাশ্য ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে।
 
বিতর্কিত বা ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকা কনটেন্টে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হবে।
 
সম্পাদকীয় কার্যক্রমের মান উন্নয়নে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও জবাবদিহিতা ব্যবস্থা চালু থাকবে।
 
সাংবাদিকের দায়িত্ব ও পেশাগত আচরণ
 
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সাংবাদিক ও কর্মীকে-
 
তথ্য সংগ্রহের সময় সততা বজায় রাখতে হবে;
 
কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সংবাদ প্রকাশের বিনিময়ে অর্থ, উপহার বা ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না;
 
সংবাদ সংগ্রহের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া যাবে না;
 
তথ্যের উৎসের গোপনীয়তা প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষা করতে হবে;
 
কোনো পক্ষের দেওয়া তথ্যকে যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না;
 
ভুল হলে তা স্বীকার করে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
 
জনস্বার্থের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা আমাদের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
 
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
 
দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা হবে।
 
তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের আগে-
 
তথ্য ও নথি যথাসম্ভব যাচাই করতে হবে;
 
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে;
 
ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা যাবে না;
 
জনস্বার্থের গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করতে হবে।
 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের নীতি
 
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকতার কাজকে দ্রুত ও কার্যকর করতে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে-
 
AI-উৎপাদিত তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা যাবে না;
 
AI-এর তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা লেখা ব্যবহার করলে প্রয়োজন অনুযায়ী তা স্পষ্ট করতে হবে;
 
AI কোনো সাংবাদিকের তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বের বিকল্প নয়;
 
জনস্বার্থ, সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সুবিধার চেয়ে সম্পাদকীয় নীতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
 
চূড়ান্ত অঙ্গীকার
 
এই নীতিমালা প্রতিষ্ঠানের সকল সাংবাদিক, রিপোর্টার, সম্পাদক, ভিডিও ও কনটেন্ট নির্মাতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য ও বাধ্যতামূলক।
 
আমরা বিশ্বাস করি-
 
স্বাধীনতা ছাড়া সাংবাদিকতা অসম্পূর্ণ।
দায়বদ্ধতা ছাড়া স্বাধীনতা বিপজ্জনক।
বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়া গণমাধ্যম মূল্যহীন।
 
তাই আমাদের মূল অঙ্গীকার- স্বাধীনতা + দায়বদ্ধতা + বিশ্বাসযোগ্যতা = জনস্বার্থের সুরক্ষা
 
আমাদের লক্ষ্য এমন একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সংবাদ কোনো ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান বা স্বার্থগোষ্ঠীর জন্য নয়-
 
সর্বোপরি জনগণের জন্য।

Back to top button