আন্তর্জাতিক খবরদিবস

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সকল  দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদ্যাপনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূূচি হাতে নেয়া হয়েছে। সকালে শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।  যেখানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী  মো. তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে ‘শান্তিরক্ষী  দৌড়-২০২৪’ উদ্বোধন করবেন।

পরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন  কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকট-আত্মীয় ও আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
দীর্ঘ চার দশকের শান্তিরক্ষার ইতিহাসে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি  দেশ ও স্থানে, ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে। বর্তমানে ১৩টি  দেশে আমাদের ৬,০৯২ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ও কার্যক্রমে নিয়োজিত আছে যার মধ্যে রয়েছে ৪৯৩ জন নারী শান্তিরক্ষী। শুরু  থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। এই বছর ৩ জন আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি স¤প্রচারের ব্যবস্থা করবে।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়- বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বিশ্বশান্তি রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অঙ্গীকার বাংলাদেশের মহান সংবিধানেও প্রতিফলিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর মানবতার কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে ধারণ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা সূচিত হয় ১৯৮৯ সালে- নামিবিয়া মিশনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ পুলিশের ২১ হাজার ৪৫৩ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন  দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে  পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মিশন সম্পন্ন করেছেন।

এর মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী রয়েছেন এক হাজার ৮১০ জন। বর্তমানে  ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মালি, সাইপ্রাস,  সেন্ট্রাল আফ্রিকা, সাউথ সুদান ও লিবিয়ায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ১২০ জন নারী সদস্যসহ ৩৬৪ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ২৪ জন পুলিশ সদস্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন, আহত হয়েছেন ১২ জন। 
উল্লেখ্য, ২০০০ সাল হতে বাংলাদেশ পুলিশের নারী পুলিশ কর্মকর্তাগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা নানা প্রতিকূলতার মাঝেও প্রচ- মানসিক শক্তিতে মিশন এলাকার জনগণকে আপন করে নিয়েছেন, তাদের পাশে  থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।  
বাংলাদেশ পুলিশ হাইতির ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অসহায় মানুষের পাশে  থেকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে, আবার আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে পুলিশি সেবা প্রদান, পুলিশের প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনন্য সাধারণ ভূমিকা  রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক পরিম-লে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। পুলিশের শান্তিরক্ষীরা দুর্গম ভৌগলিক পরিবেশ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিন দশকেরও  বেশি সময় ধরে বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশেষ জার্নাল ও জাতীয়  দৈনিকসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ  টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন  বেসরকারি  টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ টক-শো প্রচারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশ  টেলিভিশনসহ অন্যান্য  বেসরকারি  টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনারগণ, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, তিন বাহিনী প্রধানগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

এই বিভাগের অন্য খবর

এছাড়াও দেখুন
Close
Back to top button