বাবার পথ অনুসরণ করে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিনাজপুরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয়দের মতে, বাবার পথ অনুসরণ করেই তিনি এই কর্মসূচির সূচনা করেছেন।
দিনাজপুরের বলরামপুর গ্রামের ৭৪ বছর বয়সি বাসিন্দা কুলসুম বেগম স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমাদের বোনের ছেলে তারেক রহমান। খালেদা জিয়া আমাদের বোন। তার ছেলে এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে। শহীদ জিয়া মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কর্মসূচিতে যোগ দিতেন।”
তিনি জানান, ১৯৭৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিনাজপুরে সাহাপাড়া খাল খনন করেছিলেন। এখন তার ছেলে সেই খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করলেন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বর্তমানে খালটি অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও উঁচু-নিচু মাটির স্তুপ, কোথাও আবার সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে পানি। বর্ষা মৌসুম এলেও আগের মতো পানিপ্রবাহ দেখা যায় না। ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় গৃহবধূ শিউলী খাতুন বলেন, “সাহাপাড়া খাল আমাদের অনেক কষ্টের কারণ। এবার যদি খালটি পুনঃখনন হয়, তাহলে হয়তো আমাদের দুঃখ কিছুটা কমবে।”

সাহাপাড়া খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার। খালটির সঙ্গে পুনর্ভবা নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রবাহিত হয়ে নদীটি ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে এবং পরে পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাহারোল উপজেলায় আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২–১৩ কিলোমিটার দূরে বলরামপুর গ্রামে তাকে একনজর দেখতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে গ্রামের গৃহবধূরাও। অনেকেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, “খালটি পুনঃখনন হলে এলাকায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। এখানে পানি জমলে মাছ চাষ করা যাবে, খালের দুই পাড়ে গাছ লাগানো গেলে সবুজ বনায়নও গড়ে উঠবে।”
খাল খনন কাজে অংশ নিতে আসা অনিতা বলেন, “আজ আমাদের খুব আনন্দের দিন। আমাদের নেতা এসেছেন। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটতে এসেছি। এত মানুষ একসঙ্গে কাজ করছি-এটাই আমাদের গর্ব।”



