‘কর্মক্ষেত্র তৈরি করুন, মেধাবীরা এমনিতেই দেশে ফিরবেন’: শিক্ষামন্ত্রীকে তাসনিম জারা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরফাইড পেজে শিক্ষামন্ত্রীকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।
শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তাসনিম জারা বলেন, মানুষ শুধু মুখের কথায় বিদেশের সব সুযোগ-সুবিধা পেছনে ফেলে দেশে ফিরে আসবে না। কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হলে তাদের আলাদাভাবে দেশে ফেরার আহ্বান জানাতে হবে না, তারা নিজেরাই ফিরে আসবেন।
দেশে ও বিদেশে সবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা, প্রকাশনা, পড়ানোর অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া উচিত। প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তা কিংবা তদবির যেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা না রাখে।
তাসনিম জারা বলেন, বিদেশে দীর্ঘদিন গবেষণা করা একজন তরুণ যদি মনে করেন তার গবেষণা ও যোগ্যতা রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে মূল্যহীন হয়ে যাবে, তাহলে তিনি দেশে ফেরার ঝুঁকি নেবেন কেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক কর্মপরিবেশ এবং এমন বেতন কাঠামোর পরামর্শ দেন, যাতে একজন শিক্ষককে সংসার চালাতে একাধিক জায়গায় খণ্ডকালীন ক্লাস নিতে না হয়।
গবেষণাকে শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং গবেষণাগারে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষকদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গবেষণা তহবিল দেওয়া যেতে পারে। বিদেশ থেকে দেশে ফেরা গবেষকদের জন্য শুরুতে স্টার্টআপ ফান্ড, গবেষণা সহকারী নিয়োগ এবং ল্যাব তৈরির সুযোগ দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তিসহ পিএইচডি ও পোস্টডক পদ সৃষ্টি, কাজ ও গবেষণার ভিত্তিতে পদোন্নতি, গবেষণার স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া চালুর কথা বলেন তাসনিম জারা।
বিদেশে থাকা গবেষকদের দেশে ফিরতে উৎসাহিত করতে ভিজিটিং প্রফেসর, যৌথ নিয়োগ, কো-সুপারভাইজার এবং স্বল্পমেয়াদি শিক্ষকতার মতো সুযোগ তৈরির পরামর্শও দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিকুলাম, পাঠ্যবই, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানীতি তৈরির মতো কাজেও বিদেশে থাকা দক্ষ বাংলাদেশিদের যুক্ত করার কথা বলেন।
গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন থেকে স্পিনআউট কোম্পানি তৈরির সুযোগ সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তাসনিম জারা। তার মতে, এতে গবেষণার ফল বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে কাজে লাগার পাশাপাশি গবেষকেরাও তাদের উদ্ভাবনের ন্যায্য অংশ পেতে পারেন।
সবশেষে তিনি বলেন, বিদেশে থাকা মানুষ দেশে ফেরার আগে দেখেন দেশে যারা রয়েছেন তাদের কাজের মূল্যায়ন ও মর্যাদা কতটা আছে। দেশে থাকা মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হলে বিদেশে থাকা অনেকেই দেশে ফিরতে আগ্রহী হবেন।
শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, আহ্বানটি কতটা আন্তরিক, তা বোঝা যাবে দেশে মেধাবীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেটি দেখার মাধ্যমে।



