
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ছুটিতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সব ধরনের গণপরিবহনে। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে ঢাকা রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। বিশেষ করে রেলপথে যাত্রীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, বিভিন্ন স্থানে ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী বহনের চিত্র দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যার পর কমলাপুর, বিমানবন্দর ও গাজীপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। আসন সংকটের কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে যাত্রা করছেন। এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকেই ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে এবং মঙ্গলবার সকালেও ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেলেও বুড়িমারী এক্সপ্রেস দেরিতে আসায় নির্ধারিত সময়সূচিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ছাদে ভ্রমণের অনুমতি না থাকলেও যাত্রীরা বিভিন্নভাবে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছে।
সড়কপথেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। বাস রিকুইজিশনের কারণে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় ঘরমুখী যাত্রীরা গাড়ির সংকটে পড়ছেন। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বাস, ট্রাক কিংবা যেটি পাচ্ছেন, সেটিতেই যাত্রা করছেন। পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় টিকিট না পাওয়ার অভিযোগও করছেন অনেকে।
শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের জেনারেল ম্যানেজার জীবন চক্রবর্তী বলেন, সড়কপথে যাত্রীচাপ বাড়লেও মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে বাস ঘুরিয়ে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে, যার ফলে আজ রাতের অনেক বাসের নির্ধারিত সূচি বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীর চাপ থাকলেও গাড়ির স্বল্পতার কারণে টিকিট বিক্রি করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে যেতে দেখা যায়। পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নির্বাচনী ছুটিতে ঘরে ফেরার এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে না পারায় রেল, সড়ক ও নৌ-সব পথেই যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা



