
নড়াইলে তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে একটি পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাম্পের আরেক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকায় মের্সাস তানভীর ফিলিং স্টেশন-এর পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মো. ওলি মিয়া, যিনি নড়াইল থানা পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
নিহত নাহিদ সর্দার (৩৩) তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে এবং ওই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ছিলেন। আহত জিহাদুল ইসলাম (২৭) তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্লার ছেলে।
পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. জসিমউদ্দীন জানান, সুজাত নামের এক ট্রাকচালক পাম্পে তেল নিতে এলে তেল না থাকায় তাকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে নাহিদ সর্দারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই চালক ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদকে ট্রাকচাপা দেওয়ার হুমকি দেয়।
পাম্পের আরেক কর্মচারী মো. সোহান ইসলাম বলেন, হুমকি দেওয়ার পরও চালক পাম্পের কাছেই অবস্থান করছিল। রাত আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে নাহিদ সর্দার পাম্পের কাজ শেষ করে জিহাদুল ইসলামকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে রওনা দেন। এ সময় ট্রাকচালকও ট্রাক ঘুরিয়ে তাদের পেছনে যায়।
সন্দেহ হওয়ায় পাম্পের কয়েকজন কর্মী মোটরসাইকেলে ট্রাকটির পিছু নিলে দেখতে পান, ট্রাকটি নাহিদ সর্দারকে চাপা দিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে।
ঘটনায় নাহিদ সর্দার ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং জিহাদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আহত জিহাদুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, পাম্পসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তেল নিয়ে বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে পূর্বের কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত নাহিদ সর্দারের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া ও তদন্ত চলছে। দ্রুতই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪



