
শীতের রোদে সবুজ পাতার ফাঁকে রুপালি দানার মতো চিকচিক করছে লালচে ও হলুদ রঙের বল সুন্দরী এবং ভারত সুন্দরী জাতের কুল। কাঁচা-পাকা কুলের ভারে কোথাও কোথাও গাছ মাটির কাছে নুয়ে পড়েছে।
এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের মানিকপোটল গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা শামসুল আল আমীনের এক একর জমির কুল বাগানে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের জমিতে বল সুন্দরী এবং ভারত সুন্দরী জাতের কুলের চারা রোপণ করেন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এখন পাচ্ছেন বাম্পার ফলন। প্রতিটি গাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কেজি পর্যন্ত কুল উঠছে।
বাজার ও দাম
শুধু বল সুন্দরী ও ভারত সুন্দরী নয়, এই বাগানে রয়েছে টাঙ্গাইলের টক-মিষ্টি এবং কমলা টক জাতের কুল। ফলনের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকার কারণে দামও ভালো। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ কুল বিক্রি করা হয়েছিল ৯-১০ হাজার টাকায়। বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে দাম কিছুটা কমেছে, এখন প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

খরচ ও লাভের আশা
কৃষি উদ্যোক্তা শামসুল আল আমীন জানান, এক একর জমিতে কুল চাষে তার খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার বেশি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বাগান থেকেই তিনি আশা করছেন প্রায় ১০ লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারবেন।
“আগামীতে আরও বড় পরিসরে কুল চাষ করার পরিকল্পনা আছে। সঠিক পরিকল্পনা আর পরিশ্রম থাকলে ফল চাষই হতে পারে বদলে যাওয়ার গল্প,” জানান শামসুল আল আমীন।



