
এক সময়ের ধূসর বালুচর আজ রূপ নিয়েছে সবুজ শ্যামল ফসলের মাঠে। যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে উর্বর পলিমাটিতে এখন নানা ধরনের ফসলের চাষ হচ্ছে। চোখ জুড়ানো এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের আটাচর এলাকায়।
চরের জমিতে এখন কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কেউ কাটছেন গান্জিয়া ধান, আবার কেউ নতুন করে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা জানান, গান্জিয়া ধান চাষ তুলনামূলক সহজ। এবছর ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় তারা সন্তুষ্ট।
এবার চরের জমিতে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা চাষ হয়েছে। আগাম জাতের ভুট্টায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। অনেকেই প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মন পর্যন্ত ভুট্টা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। বর্তমানে সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

ধান ও ভুট্টার পাশাপাশি চর এলাকায় চাষ হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন, গম, বোরো ধান, কালাই, সরিষা, মিষ্টি আলু, মরিচ, বেগুনসহ নানা ধরনের ফসল। যমুনার উর্বর পলিমাটিতে প্রায় সব ধরনের ফসলেই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের ভাষ্য, চরের জমিতে যেকোনো ফসল চাষ করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধুনট উপজেলায় যমুনার চরে ভুট্টা চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে, বোরো ধান ১৩ হেক্টর, গম ২ হেক্টর, মরিচ ১০ হেক্টর, পেঁয়াজ ৫ হেক্টর এবং মসুর ডাল চাষ হয়েছে ৬ হেক্টর জমিতে।
যমুনার চরাঞ্চলে উর্বর পলিমাটির কারণে কৃষকেরা যেমন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, তেমনি ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে এই চাষাবাদ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



