বগুড়া জেলা

তেলসংকটে বগুড়ার অধিকাংশ পেট্রলপাম্প বন্ধ, বিপাকে চালক ও কৃষক

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বগুড়ার ৭৮টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সিংহভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ পাম্পে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা। একই সঙ্গে ডিজেলসংকটে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম, বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে দেখা যায়, বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কের মিতালী ফিলিং স্টেশন এবং দত্তবাড়ি এলাকার শতাব্দী ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। শহরের চারমাথা থেকে মোকামতলা পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক-এর দুই পাশে অন্তত ৩০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে, যার প্রায় সবই তেলশূন্য হয়ে বন্ধ।

বেলা ১১টার দিকে কেবল টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা পাওয়া যায়। সেখানে তেলের জন্য কয়েক শ যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার এবং ভারী যানবাহনে ২০ লিটারের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না।

মাটিডালি এলাকার নর্দান ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বগুড়া জেলা পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এমদাদ আহমেদ বলেন, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁর পাম্প সোমবার রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে। তেল পৌঁছালে বুধবার সকাল থেকে আবার বিক্রি শুরু করা যাবে।

রংপুরের পাম্পমালিক রেজাউল হক জানান, তাঁর মালিকানাধীন হক ব্রাদার্স, বিপ্লব, আরজাহান, নাহার ও সম্ভাবনা-এই পাঁচটি ফিলিং স্টেশনই বর্তমানে তেলসংকটে বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, রংপুর থেকে বগুড়া আসার পথে মহাসড়কের পাশে অন্তত অর্ধশত পেট্রলপাম্প বন্ধ দেখেছেন।

উপজেলা পর্যায়েও সংকট

শুধু শহর নয়, উপজেলার পাম্পগুলোতেও তেল মিলছে না। ধুনট উপজেলা-র দুটি ফিলিং স্টেশন কয়েক দিন ধরে তেলশূন্য। এতে ডিজেল না পেয়ে সেচপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে, বোরো খেতে পানি দিতে পারছেন না কৃষকেরা।

সকালে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স সুলতান ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স ধুনট ফিলিং স্টেশনে তেল নেই। পাম্পের সামনে দড়ি দিয়ে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।

তারাকান্দি গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ডিজেলের অভাবে সেচপাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। বোরো খেতে পানি না পেলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধুনট ফিলিং স্টেশনের মালিক জুয়েল রানা জানান, ঈদের দিন থেকেই তাদের পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও নতুন করে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা, কাহালু উপজেলা, দুপচাঁচিয়া উপজেলা ও আদমদীঘি উপজেলা-এর পাম্পগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান (রতন) বলেন, বগুড়ায় ৭৮টি পেট্রলপাম্পের মধ্যে সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রায় অর্ধেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত একটি ট্যাংকলরিতে ৯ হাজার লিটার তেল পরিবহন করা যায়। কিন্তু বর্তমানে পাম্পমালিকদের গড়ে পাঁচ হাজার লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, অথচ বাড়তি দামে তেল বিক্রির সুযোগ নেই।

সূত্র: প্রথম আলো

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button