নির্বাচন
প্রধান খবর

জামায়াতের ইশতেহারে যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার তুলে ধরেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ইশতেহার ঘোষণাকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী এই ইশতেহার প্রণয়ন করেছে। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

ইশতেহারে জাতীয় স্বার্থ, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের ইশতেহারে অগ্রাধিকারমূলক অঙ্গীকার

  • ১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’-এই স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
  • ২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন।
  • ৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রাধান্য নিশ্চিত করা।
  • ৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
  • ৫. আইনশৃঙ্খলার সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
  • ৬. সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।
  • ৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
  • ৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
  • ৯. ব্যাংকিং খাতের সার্বিক সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা ও টেকসই অর্থনীতি বিনির্মাণ।
  • ১০. আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।
  • ১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
  • ১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
  • ১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহায়তা বাড়িয়ে কৃষি বিপ্লব সৃষ্টি।
  • ১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করা।
  • ১৫. ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
  • ১৬. শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মানসম্মত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
  • ১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিত করা।
  • ১৮. সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু ভেদাভেদহীন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি (Inclusive Nation) গঠন।
  • ১৯. আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
  • ২০. শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা।
  • ২১. দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা।
  • ২২. যাতায়াতব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবহন বিপ্লব সাধন।
  • ২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা।
  • ২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
  • ২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা।
  • ২৬. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button