
ভারত-এর মুদ্রা রুপি ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার লেনদেন চলাকালে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯২.৪৭-এ নেমে যায়, যা আগের দিন বৃহস্পতিবারের রেকর্ড ৯২.৩৫-কেও ছাড়িয়ে যায়। সপ্তাহ শেষে রুপির মান ০.৭% কমে ৯২.৪৫-এ স্থির হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) বাজারে হস্তক্ষেপ না করলে রুপির পতন আরও বড় হতে পারত।
ভারত তার জ্বালানি তেলের বড় অংশ আমদানি করে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভারতের আমদানি ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে দেশটির প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির ভারসাম্য চাপে পড়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে ব্যাপক হারে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। চলতি মাসেই তারা প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন।
এর প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারেও। দেশের প্রধান সূচক নিফটি ৫০ শুক্রবার প্রায় ২% কমে তথাকথিত “কারেকশন জোনে” প্রবেশ করেছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলে ভারতের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের চাহিদা এবং রুপির বিপক্ষে বাজি ধরার প্রবণতা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার আপাতত যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা ধীরগতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা পর্যবেক্ষণের জন্য ভারত এই “ধীরে চলো” নীতি নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে রুপির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তেলের দাম বাড়তেই থাকলে ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৫-এর ঘরে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা



