
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত তিন হাজার ৫০০ চিকিৎসকের গেজেট প্রকাশ ও পদায়ন তিন মাসেও সম্পন্ন হয়নি। এতে উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
এ ইস্যুতে গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) সুপারিশপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও পদায়নের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) সুপারিশপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ দাস বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ হাজার ৯৮০টি চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তীব্র চিকিৎসক সংকট চলছে। এমন পরিস্থিতিতেও তিন হাজার ৫০০–এর বেশি প্রস্তুত চিকিৎসককে পদায়ন না করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে দুই হাজারের বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গত ২৯ মে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে ১৮ জুলাই এমসিকিউ ধরনের লিখিত পরীক্ষা, ১০ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) অনুষ্ঠিত হয় এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। তবে ফল প্রকাশের তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি।
আয়োজকরা জানান, দ্রুত নিয়োগের আশায় অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত চিকিৎসক এফসিপিএস, এমডি-এমএসসহ চলমান উচ্চতর প্রশিক্ষণ ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু গেজেট ও পদায়ন বিলম্বিত হওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এতে একদিকে তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে একাডেমিক ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. রুহুল আমিন, ডা. মো. রিফাত খন্দকার, ডা. ইশরাত জাহানে ঈসা, ডা. আজাদ হোসেন ও রাতুল বালা বিশ্বাল।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ



