আন্তর্জাতিক খবর

মার্কিন চাপের মুখে রাশিয়ার তেল কেনা এড়াচ্ছে ভারত

মস্কোর তেল কেনা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ভারতীয় জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারগুলো। এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য রাশিয়ার তেল কেনা এড়িয়ে চলছেন ভারতের বড় রিফাইনাররা, এমনকি দীর্ঘ সময়ের জন্যও এই বাণিজ্য থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

পরিশোধন ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি সহজ করতে নয়াদিল্লি এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি সামনে

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বাণিজ্য চুক্তির আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে। মার্চের মধ্যেই চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে দুই দেশ।
ভারতের প্রত্যাশা-এই চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

মার্চ-এপ্রিলে রাশিয়ার তেল নয়

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ মার্চ ও এপ্রিল মাসে রাশিয়ান তেল লোডিংয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করছে না।
রিফাইনারদের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যবসায়ী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিফাইনার সূত্র জানায়, মার্চ মাসে কিছু রাশিয়ান তেলের সরবরাহ সূচিতে থাকলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এখন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা কার্যত বন্ধ রেখেছে

তবে সংশ্লিষ্ট তিন রিফাইনার এবং ভারতের তেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। শনিবার দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী এ সংক্রান্ত প্রশ্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছেন।

ভারতের অবস্থান: জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন,

“বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা ভারতের কৌশলের মূল ভিত্তি।”

যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে রাশিয়ার তেলের প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি

ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাহার ও সতর্কবার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেন, যা রাশিয়ার তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধের কোনো ঘোষণা দেয়নি

ট্রাম্পের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভারত যদি আবার রাশিয়ার তেল কেনা শুরু করে, তাহলে মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং শুল্ক পুনর্বহালের সুপারিশ করবেন

রাশিয়ার তেলে ভারতের নির্ভরতা কমছে

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ছাড়মূল্যের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সমুদ্রপথের ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। এক পর্যায়ে আমদানি ২০ লাখ ব্যারেল দৈনিক ছাড়িয়ে যায়

সূত্র জানায়, ভারত মার্চের মধ্যে রাশিয়ার তেল আমদানি ১০ লাখ ব্যারেল দৈনিকের নিচে নামিয়ে আনতে প্রস্তুত হচ্ছে।
যা গত বছরের গড় ১৭ লাখ ব্যারেল থেকে নেমে আসবে প্রায় ৫-৬ লাখ ব্যারেল দৈনিকে

ডিসেম্বরে ভারতের রাশিয়ান তেল গ্রহণ দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বেশি তেল কিনছে।

নায়ারা রিফাইনারি ব্যতিক্রম

রাশিয়া-সমর্থিত বেসরকারি রিফাইনার নায়ারা, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪ লাখ ব্যারেল, তারা পুরোপুরি রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভরশীল।
তবে এপ্রিল মাসে এক মাসের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ থাকায় নায়ারারও রাশিয়ান তেল আমদানির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তথ্যসূত্র: বিডি প্রতিদিন

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button