
দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের সময় হত্যাচেষ্টার হুমকিতে পড়েছিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। আশঙ্কা ছিল, তার হেলিকপ্টারটি গুলি করে ধ্বংস করা হতে পারে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি নির্ধারিত গন্তব্যে অবতরণ করতে পারেননি এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পেত্রো জানান, আগের দিন কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূলে একটি নির্ধারিত স্থানে তার হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারেনি। কারণ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ‘গুলিবর্ষণ করবে’-এমন তথ্য তিনি পেয়েছিলেন।
দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও নাসিওনাল দে কলম্বিয়াকে তিনি বলেন,
“গত রাতে আমি অবতরণ করতে পারিনি। কারণ আমাকে জানানো হয়েছিল, আমি আমার মেয়েদের সঙ্গে যে হেলিকপ্টারে ছিলাম, সেটিতে গুলি চালানো হবে। যেখানে নামার কথা ছিল, সেখানে তারা আলো পর্যন্ত জ্বালায়নি।”
কয়েক মাস ধরেই পেত্রো সতর্ক করে আসছিলেন যে মাদক পাচারকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র করছে। উত্তরাঞ্চলের কর্দোবা বিভাগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাকে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় তার হেলিকপ্টারটি কয়েক ঘণ্টা সমুদ্রের দিকে অবস্থান নেয়। পরে কলম্বিয়ান নৌবাহিনীর সহায়তায় অন্য একটি স্থানে নিরাপদে অবতরণ করে। এরপর তার নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ভ্রমণপথ পরিবর্তন করা হয়।
রেডিও নাসিওনাল দে কলম্বিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপ্রধান জানিয়েছেন এসব ঘটনা তাকে স্থায়ী সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। তার দাবি, গত বছরের অক্টোবর থেকে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা চলছে। ২০২৪ সালেও পেত্রো তার বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন।
পেত্রোর অভিযোগ, ২০২২ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি মাদক পাচারকারী চক্র তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর


