
মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে জান্তা সরকারের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের একটি জনবহুল বাজার এলাকায় এ হামলা চালানো হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজার এলাকায় চালানো এই বিমান হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে অভিযানটি চালানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সামরিক জান্তা সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে এ ধরনের হামলার বিষয়ে জান্তা দাবি করে আসছিল, তারা কেবল বৈধ ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানে। একই সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে তারা।
২০২১ সালে সু চির গণতান্ত্রিক সরকার পতনের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে। পাঁচ বছর সেনাশাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করছে আরাকান আর্মি (এএ)। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদর দপ্তর দখল করেছে গোষ্ঠীটি।
এর প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী সেখানে কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে। এতে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। আগস্টে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা বলা হয়। আর এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ



