
দেশে চলমান নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পরীক্ষার্থীদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব রিটটি দায়ের করেন। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক ব্যস্ততা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতজনিত সমস্যার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে এই আবেদন করা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পিএসসির প্রস্তুতি সম্পন্ন
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিএসসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পরীক্ষার হল, আসন বিন্যাস ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে বিপিএসসির ওয়েবসাইট ও টেলিটকের পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। তবে পরীক্ষার মাত্র দুদিন আগে আদালতে রিট দায়ের হওয়ায় পাঁচ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তবে আদালতের কোনো স্থগিতাদেশ এলে সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিসিএস প্রক্রিয়ার পটভূমি
৫০তম বিসিএসের প্রক্রিয়া শুরু হয় গত বছরের ২৬ নভেম্বর, যখন পিএসসি তাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েক লাখ চাকরিপ্রত্যাশী অনলাইনে আবেদন করেন।
এই বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার পদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে, তাই জনস্বার্থেই এই রিট করা হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আজ অথবা আগামীকাল এই রিটের ওপর শুনানি হতে পারে। আদালত যদি পরীক্ষা স্থগিতের আদেশ দেন, তাহলে পিএসসিকে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত ৩০ জানুয়ারিতেই দেশের সব কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও, আরেকটি অংশ দ্রুত পরীক্ষা শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, ৫০তম বিসিএসের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক



