
১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালির জীবনে নেমে এসেছিল এক বিভীষিকাময় রাত। পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবাহী সেই ভয়াল দিনটি আজ-২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। দিনটি স্মরণে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হবে। কেপিআইভুক্ত ও জরুরি স্থাপনা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাগুলোতে এ সময় কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।
একাত্তরের মার্চে যখন দেশ আন্দোলনে উত্তাল, তখন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং মধ্যরাতে শুরু হয় নৃশংস সামরিক অভিযান।
সেই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিকল্পিত অভিযানে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বর হামলা চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়, যা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বিজয়ে শেষ হয়। সেই সংগ্রামের ফলেই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
ইতিহাসবিদরা বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য ও শোষণের শিকার হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-এর মতো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সময়ক্ষেপণ করলে ১৯৭১ সালের মার্চে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। সেই আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকাসহ সারা দেশে আক্রমণ শুরু করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, কারফিউ জারি করা হয় এবং জনবসতিতে আগুন দেওয়া হয়। মধ্যরাতের পর রাজধানী ঢাকা লাশের শহরে পরিণত হয়-যা ইতিহাসে চিরকাল ‘কালরাত’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আজ গণহত্যা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।



