রাজনীতি
প্রধান খবর

এনসিপি জোটে যাওয়ায় তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস হারিয়েছে: মীর স্নিগ্ধ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে পারত, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও এবং শহীদ মীর মুগ্ধর জমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

মীর স্নিগ্ধ জানান, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এনসিপির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছিল। পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার প্রত্যাশা এবং দলটির স্বতন্ত্র অবস্থানই ছিল এই আগ্রহের মূল কারণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আগ্রহকে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তায় পরিণত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

নিজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েকদিন ধরে বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সময় একটি স্পষ্ট পরিবর্তন তার চোখে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘জেনারেশন জেড’-এর একটি বড় অংশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিল। কিন্তু জোটবদ্ধ হওয়ার পর এখন অনেকের মুখে শোনা যাচ্ছে-‘ভাবছিলাম এনসিপিকে দেব, কিন্তু এখন চিন্তা করতেছি।’ এই দ্বিধাকেই রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন তিনি।

মীর স্নিগ্ধের মতে, ক্ষমতার শর্টকাট পথে যেতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্বাস হারালে দীর্ঘমেয়াদে কোনো দল টিকে থাকতে পারে না। তিনি মনে করেন, এনসিপির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে জোটে যাওয়াই সম্ভবত সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল। এনসিপি যদি এককভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারত, তাহলে হয়তো এই নির্বাচনে বড় সাফল্য না এলেও ভবিষ্যতের বাংলাদেশে দলটির প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারত।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার তাড়াহুড়ো যদি ভোটারদের আস্থায় চিড় ধরায়, তাহলে দীর্ঘ পথচলা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি এবং সময়ই এর প্রকৃত ফলাফল নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় তরুণদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেই এখন প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button