
নিজস্ব প্রতিবেদক: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপী উল্লেখ করে নোটিশ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নামে নেয়া এই ঋণ পরিশোধে গত ৩ ডিসেম্বর এই টাকা পরিশোধ করার জন্য কল ব্যাক নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশ জারি করেন ইসলামী ব্যাংক বগুড়া বড়গোলা শাখার প্রধান মো. তৌহিদ রেজা। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক বাজারে অবস্থিত এই আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
তবে কথা উঠেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ১৬ (ঠ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহিতা ঋণখেলাপী হলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখা থেকে দেয়া নোটিশে বলা হয়, ২০১০ সালে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের নামে ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হয়। ২০১৭ সালে এই দায় পরিশোধ করার কথা মান্নার। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি। ইতিমধ্যে বর্তমানে এর বকেয়া দায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে এই নোটিশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট একই নোটিশ দিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অবহিত করা হয়।
এতে ইসলামী ব্যাংক আরও বলে, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর এর মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে জানতে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে অপেক্ষা করেও তিনি সাড়া দেননি।
ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখা প্রধান মো. তৌহিদ রেজা নোটিশ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাকে তো একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে গতকাল তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সাগর নামে একজন যোগাযোগ করেছেন। এই ম্যানেজারের মারফতে মাহমুদুর রহমান মান্না টাকা পরিশোধ করে দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফাকু কোল্ড স্টোরেজে মান্নার সঙ্গে আরও একজন অংশীদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ব্যবস্হাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী রয়েছেন। পুলিশের সূত্রমতে, তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার জন্য ৯ টি মামলা বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ থানায় রয়েছে। শাহজাহান চৌধুরী ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আমেরিকায় পালিয়ে যান।


