দিবস
প্রধান খবর

২৬তম সুন্দরবন দিবস আজ: ‘প্লাস্টিকমুক্ত সুন্দরবন’ গড়ার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূল রক্ষায় অবিকল্প ভূমিকার স্বীকৃতি জানিয়ে আজ দেশে পালিত হচ্ছে ২৬তম সুন্দরবন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘প্লাস্টিকমুক্ত সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা’।

পর্যটন ও নদীপথে চলাচলকারী নৌযান থেকে ফেলা প্লাস্টিক ও পলিথিন বনের শ্বাসমূল ও মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। ফলে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হয়েছে।

সুন্দরবন দিবসের প্রেক্ষাপট

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রূপান্তর ও পরশসহ দেশের প্রায় ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠন সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০২ সাল থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ভালোবাসা দিবস ও বসন্ত উৎসবের আড়ালে কিছুটা নিভৃতেই পালিত হলেও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার; এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশের সীমানায় এবং বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত। বাংলাদেশের অংশের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার।

সরকারি বন বিভাগ ও UNESCO-এর তথ্যমতে, সুন্দরবনে রয়েছে প্রায় ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ। প্রাণীকুলের মধ্যে প্রায় ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২৭০-৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৩৫–৫০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৮–১০ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। এছাড়া জলাশয়ে পাওয়া যায় প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ ও ২০-৩০ প্রজাতির চিংড়ি।

সাম্প্রতিক বাঘ শুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা প্রায় ১২৫। তবে শিকার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা এবং অবৈধ কার্যক্রম এখনো বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে আছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বাড়ছে সংকট

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুন্দরী গাছে ‘আগা মরা’ রোগ দেখা দিচ্ছে। এতে বনের ঘনত্ব কমছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত জাহাজ চলাচল, শিল্পায়ন এবং নদীপথের দূষণও ইকোসিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অথচ এই বনই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঢাল হিসেবে কাজ করে। সিডর ও আইলার মতো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের গতি ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়ে উপকূলের লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছে সুন্দরবন।

বিশেষজ্ঞদের দাবি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন নয়-সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বাওয়ালি, মৌয়াল ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বনের চারপাশে ক্ষতিকর শিল্পায়ন বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

২৬তম সুন্দরবন দিবসে পরিবেশবিদদের আহ্বান- “সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করছে, এখন আমাদের পালা সুন্দরবনকে রক্ষা করার।”

দেশজুড়ে কর্মসূচি

খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বন বিভাগের উদ্যোগে র‍্যালি, মানববন্ধন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button