
আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এমন সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ম্যাচ না খেললে ভারত সরাসরি দুই পয়েন্ট পাবে এবং পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি ওয়াকওভার হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইকোসিস্টেমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইসিসি।
বয়কট করলে কী হবে?
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী-
- পাকিস্তান ম্যাচে মাঠে না নামলে ভারত সরাসরি দুই পয়েন্ট পাবে
- ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য ‘ওয়াকওভার’ হিসেবে বিবেচিত হবে
- আইসিসির ধারা ১৬.১০.৭ অনুযায়ী
- ডিফোল্টিং দল (পাকিস্তান) পুরো ২০ ওভার খেলেছে ধরে নিয়ে রানরেট গণনা করা হবে
- এতে পাকিস্তানের নেট রানরেট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
- পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান তলানিতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
- ভারতের রানরেটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না
আইসিসির প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের বয়কট ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, তারা এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়,
“একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দলের সমান শর্তে অংশগ্রহণের মৌলিক নীতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো অখণ্ডতা, প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা সিলেক্টিভ অংশগ্রহণের মাধ্যমে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
আইসিসি পিসিবিকে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছে।
ম্যাচের গুরুত্ব
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের। বাণিজ্যিক ও দর্শক আগ্রহের দিক থেকে এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত।
পটভূমি
এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ২৪ জানুয়ারি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। সে সময় পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যারা বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করেছিল।
এরপর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ভারতকে প্রাধান্য দেওয়ার ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন। এই প্রেক্ষাপটেই পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা



