ধুনট উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় ধুনটে অস্ত্র ও মাদক চক্রের গোপন আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান, তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

বগুড়ায় অস্ত্র ও মাদক চক্রের গোপন আস্তানায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যসহ তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলার অন্তত পাঁচটি স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-পোদ্দার বাহিনীর প্রধান ও কুখ্যাত অস্ত্র ব্যবসায়ী ফিরোজ পোদ্দার এবং তার সহযোগী রায়হান আলী। ফিরোজ পোদ্দারকে বগুড়া শহরের শাকপালা এলাকার নিজ বাসা থেকে এবং রায়হান আলীকে শাজাহানপুর উপজেলার উমরদীঘী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সেনানিবাসের ৪০ বীর ইউনিটের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ তমাল

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত দুইজনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত পেশাদার অপরাধী। তারা দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল।

নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে সেনাবাহিনী প্রথমে ফিরোজ পোদ্দারকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শাজাহানপুর উপজেলার উমরদীঘী এলাকা থেকে তার সহযোগী রায়হান আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপর তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভাড়াবাড়িতে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানে সেখান থেকে একটি ৯ মিলিমিটার ব্রিটিশ বুলডগ রিভালভার, পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান, নিরিবিলি ওই গ্রামে নির্মাণাধীন বাড়িটি ভাড়া নিয়ে পোদ্দার বাহিনী গোপনে তাদের আস্তানা গড়ে তোলে। সেখান থেকেই বগুড়া জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ করা হতো। গ্রামে অস্ত্র ও মাদকের গোপন মজুদের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ তমাল বলেন,
“গ্রেপ্তার ফিরোজ পোদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদকসহ মোট আটটি মামলা চলমান রয়েছে। তাকে ও তার সহযোগীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেনাবাহিনীর এই সফল অভিযানে অস্ত্র ও মাদক চক্রের বড় একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button