
Truth and Reconciliation বলতে বোঝায়-
অতীতের সংঘাত, ভুল শাসন, সহিংসতা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সত্যের আলোতে উন্মোচন করা, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শোনা এবং ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে নতুন করে পথচলা শুরু করা।
সাধারণত এ উদ্দেশ্যে একটি কমিশন গঠন করা হয়, যার সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ-পরবর্তী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন।
এই মডেলের মূল লক্ষ্য-
- সত্য উদঘাটন
- ভুক্তভোগীদের স্বীকৃতি
- দায়িত্ব নির্ধারণ
- সমাজে পুনর্মিলন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন
আলোচনা
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সংঘাত, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের প্রস্তাব আলোচিত হয়েছে-বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ক্ষমতার পরিবর্তনের পর।
প্রয়োগ
যদিও অতীতে ‘সত্য ও জবাবদিহি কমিশন’-এর মতো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পুরোপুরি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন মডেল অনুসরণ করেনি এবং নানা বিতর্কের মুখে পড়ে।
প্রত্যাশা
অনেকের মতে, সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে এই ধরনের কমিশন গঠন করা গেলে-
- অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব
- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে
- সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে
বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিকনসিলিয়েশন শব্দের ব্যবহার
১. সাধারণ অর্থে
ঝগড়া, বিরোধ বা দূরত্বের পর আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
উদাহরণ:
দুই বন্ধুর মধ্যে রিকনসিলিয়েশন হয়েছে।
২. হিসাববিজ্ঞানে (Accounting)
দুটি আর্থিক হিসাবের তথ্য মিলিয়ে দেখা।
উদাহরণ:
ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন- ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ক্যাশবুকের হিসাব মিল করা।
৩. রাজনীতি ও সমাজে
বিরোধী রাজনৈতিক বা সামাজিক পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি, ঐক্য ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করা।
উদাহরণ:
রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশন।
৪. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে
ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ক জোড়া লাগানো।



