রেকর্ড খতিয়ানের ভুল সংশোধনের নতুন নিয়ম, ভূমি মালিকদের যা করণীয়

ছবি: সংগৃহীত
ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে সারাদেশে রেকর্ড খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে সরকার। পূর্বে যেসব ভুল সংশোধনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মামলা, অতিরিক্ত খরচ এবং বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো, এবার নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে তা দ্রুত এবং সীমিত খরচে সংশোধন করা সম্ভব হবে।
রেকর্ডে ভুলের ব্যাপকতা
বাংলাদেশে রেকর্ড সংক্রান্ত সমস্যা বরাবরই বড় একটি সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। আরএস (রিভিশনাল সেটেলমেন্ট) রেকর্ডে বিপুল সংখ্যক ভুলের কারণে অনেক প্রকৃত মালিক তাদের জমির মালিকানা হারিয়েছেন। কোথাও জমির পরিমাণ কমবেশি দেখানো হয়েছে, কোথাও আবার ভুয়া মালিক সেজে প্রতারক চক্র রেকর্ড নিজেদের নামে করে নিয়েছে। ফলে জমি নিয়ে পরিবারে দ্বন্দ্ব ও আইনি জটিলতার ঘটনাও বেড়েছে।
নতুন নিয়মে সহজ সমাধান
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো ধরনের রেকর্ড—এসএ, আরএস, বিএস বা ডিজিটাল রেকর্ড—ভুল হলে মালিক সহজেই মামলা করে সংশোধন করতে পারবেন। এজন্য ভূমি মালিককে দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC 1908) অনুযায়ী আদালতে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। মামলার ভিত্তিতে আদালত প্রমাণ যাচাই করে রেকর্ড সংশোধনের নির্দেশ দেবে।
মামলার নতুন বিধান
- পূর্বে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা হতো, এখন সেটি বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
- বিবাদী সময়ক্ষেপণ করতে একাধিকবার সময় প্রার্থনা করতে পারত। নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ দুইবার সময়ের আবেদন করা যাবে।
- বিদেশে অবস্থানরত সাক্ষীরা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
সরকারের উদ্যোগ
পরীক্ষামূলকভাবে চারটি জেলায় নতুন নিয়মে রেকর্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিগগিরই সারাদেশে তা কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের রেকর্ড সংশোধনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
সতর্কবার্তা
আইনজীবীরা বলছেন, মামলা করার আগে অবশ্যই প্রমাণপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে। মালিকানার যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে মামলা জটিল হতে পারে এবং ক্ষতিপূরণের ঝুঁকিও রয়েছে।
ভূমি মালিকদের প্রতি সরকারের আহ্বান, যত দ্রুত সম্ভব নতুন নিয়মে আবেদন করে ভুল সংশোধন করে নিতে হবে। অন্যথায় আসন্ন ডিজিটাল রেকর্ড (BDS রেকর্ড)-এ সঠিক মালিকানা অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তথ্যসূত্র: জনকন্ঠ



