
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগেও তিনি ইরানের আন্দোলনকারীদের প্রকাশ্যে উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কড়া জবাব দিয়ে আসছে বরাবরের মতোই।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এই প্রাণহানির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন। ইরানের দাবি, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইন্ধন জোগাচ্ছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ইরানে বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দায়ী থাকবে।
এর আগেও ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলী লারিঞ্জানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন,
‘আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি:
১- ট্রাম্প
২- নেতানিয়াহু।’
এর মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের জনগণকে দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সাহায্য আসছে।’
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মিশিগানে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ইরানে বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সাহায্য আসছে’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন,
‘আপনাদেরই বুঝে নিতে হবে। আমি দুঃখিত।’
পরে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “খুব কঠোর ব্যবস্থা” নেবে। তবে সেই ব্যবস্থাগুলো কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে ইরান সরকার দাবি করেছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলে শত শত বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে সৃষ্ট এই বিক্ষোভ ইরানের ধর্মীয় শাসকদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত সোমবার জানান, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো প্রথমে ‘শান্তিপূর্ণ ও বৈধ’ ছিল, তবে দ্রুতই তা সহিংস রূপ নেয়। তার দাবি, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় এই বিক্ষোভ ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধে’ পরিণত হয়। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী শুরুতে সংযম দেখালেও পরে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। তবে এক ইরানি কর্মকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২,০০০।
ইরানজুড়ে চলমান এই সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কড়া হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর



