
‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক আব্দুস সালাম অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
কারাগারে থাকা ৩০ আসামির উপস্থিতিতে শুনানি
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় কারাগারে থাকা ৩০ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ৫ জন নারী ও ২৫ জন পুরুষ। আসামিদের উপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে সব আসামির পক্ষে অব্যাহতির শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মামলার পটভূমি
এর আগে গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এ ছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
১৪ অক্টোবর পলাতক ২৫৬ জন আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিস্তারিত
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বী আলম-এর নেতৃত্বে আয়োজিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
ওই মিটিংয়ে শেখ হাসিনা দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বক্তব্য পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ



