স্ত্রী ও সন্তান হারানোর তিন দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম

স্ত্রী ও নয় মাসের শিশু সন্তানকে হারানোর মাত্র তিন দিন পর হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। মানবিক দিক বিবেচনায় আদালত এই জামিন মঞ্জুর করেন।
সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞা-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শুনানি
সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। তিনিই বিষয়টি বিবিসি বাংলা-কে নিশ্চিত করেছেন।
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু
গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাদের নয় মাস বয়সী ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় প্যারোল না পাওয়ায় মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার-এর গেটে নিয়ে যাওয়া হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য জেলগেটের ভেতরে স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। এই ঘটনায় প্যারোল না দিয়ে জেলগেটেই মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
আইনজীবীর বক্তব্য
আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন,
“যে মামলায় সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে তার নাম আসামির তালিকায় ছিল না। অজ্ঞাতনামা হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগও প্রমাণ হয়নি। এক মামলায় জামিন করলে আরেকটি মামলা দেওয়া হয়। সবশেষ সপ্তম মামলায় আদালতে উপস্থিত সব আইনজীবীর সম্মতিতে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তারের পটভূমি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
মানবিক দিক বিবেচনায় দেওয়া এই জামিন আদেশ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা



