আইন ও অপরাধ
প্রধান খবর

মিথ্যা নিউজ ও মানহানির বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার কী

মিথ্যা সংবাদ বা মানহানিকর তথ্যের শিকার হলে আইনগতভাবে প্রতিকার পাওয়ার একাধিক পথ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার পেতে পারেন।

প্রাথমিক করণীয়

প্রথমেই একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মিথ্যা খবরের কপি, স্ক্রিনশট, প্রকাশের তারিখসহ সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে মানহানির নোটিশ পাঠানো যেতে পারে।

ফৌজদারি মামলা

মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানি করলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির মামলা করা যায়। এ ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও বাড়তে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারা অনুযায়ী আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদনও করা যায়।

দেওয়ানি মামলা

মিথ্যা সংবাদের কারণে আর্থিক বা সামাজিক ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা সম্ভব।

নির্দোষ প্রমাণিত হলে করণীয়

যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তিনি মামলা দায়েরকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এতে মানহানি ও ক্ষতিপূরণের দাবিও করা যায়।

শাস্তির বিধান

আইন অনুযায়ী মিথ্যা মামলা করা গুরুতর অপরাধ। দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় এ ধরনের অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।

ক্ষতিপূরণের সুযোগ

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারার আওতায় আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। এমনকি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মিথ্যা প্রতিবেদন দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনজীবীর সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button