ধর্মলাইফস্টাইল
প্রধান খবর

শরীরের কোন কোন অঙ্গে মেহেদী ব্যবহার জায়েজ?

কম বয়সেই চুল পেকে যাওয়া এখন অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই সৌন্দর্য রক্ষায় মেহেদি ব্যবহার করতে চান। তবে প্রশ্ন ওঠে-পুরুষরা কি চুল, দাড়ি বা শরীরের অন্য অংশে মেহেদি ব্যবহার করতে পারবেন?

ইসলামি শরিয়তের আলোকে জানা যায়, পুরুষদের জন্য চুল ও দাড়িতে মেহেদি ব্যবহার বৈধ এবং উৎসাহিত। হাদিসে উল্লেখ আছে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেও চুল ও দাড়িতে মেহেদি ব্যবহার করতেন (সুনানে আবু দাউদ: ৪২১১)।

তবে হাত-পা বা শরীরের অন্য অঙ্গে মেহেদি ব্যবহার পুরুষদের জন্য মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হিসেবে বিবেচিত। ফতোয়ার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আলমগিরি’-তে বলা হয়েছে, এটি নারীদের সাজসজ্জার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পুরুষদের জন্য তা পরিহারযোগ্য।

অন্যদিকে, চিকিৎসাগত প্রয়োজনে শরীরের যেকোনো স্থানে মেহেদি ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। ‘আল বাহরুর রায়িক’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, অসুস্থতা বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এ ক্ষেত্রে বাধা নেই।

চুলে রঙ ব্যবহারের বিধান

সাদা চুল ঢাকতে অনেকেই কালো খেজাব ব্যবহার করেন। তবে হাদিসে কালো রঙ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, “সাদা চুল পরিবর্তন করো, তবে কালো রঙ পরিহার করো” (সহিহ মুসলিম: ২১০২)।

আরও একটি হাদিসে এসেছে, “সাদা চুল পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো মেহেদি” (আবু দাউদ: ৪২০৫)।

তবে আলেমদের মতে, কম বয়সে চুল পেকে গেলে কালো রঙ ব্যবহার করা কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য, কারণ এতে প্রতারণার আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু বয়স্কদের জন্য কালো খেজাব ব্যবহার নিরুৎসাহিত।

বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম

যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে ভীত করার কৌশল হিসেবে কালো রঙ ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। ফিকহের গ্রন্থ ‘রদ্দুল মুহতার’-এ এ বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়।

সারসংক্ষেপ

  • চুল ও দাড়িতে মেহেদি ব্যবহার: বৈধ ও উত্তম
  • হাত-পায়ে মেহেদি ব্যবহার: মাকরূহ
  • চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহার: অনুমোদিত
  • কালো খেজাব: সাধারণত নিরুৎসাহিত (বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)

ইসলাম মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তাই সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রেও শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।

সূত্র: যুগান্তর

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button