
প্রতিবেদন: সিজান ইসলাম, বগুড়া লাইভ
বাজারে ঢুকতেই চোখ আটকে যায়। কারণ এটি কোনো সাধারণ মিষ্টি কুমড়ো নয়- আকারে বিশাল, ওজনে ৩০ কেজিরও বেশি। বগুড়ার বাজারে সম্প্রতি দেখা মিলেছে এমনই অস্বাভাবিক বড় আকারের মিষ্টি কুমড়োর, যা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
বাজারে প্রদর্শিত এই মিষ্টি কুমড়োগুলোর একেকটির ওজন ৩০ কেজির বেশি। তবে বিক্রেতার দাবি, অনুকূল পরিবেশে চাষ করলে এই জাতের কুমড়ো এক মণ, এমনকি ১০০ কেজিরও বেশি ওজনের হতে পারে।

বিক্রেতা জানান,
“এটি একটি হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়ো। আমরা নিজের খামারে এর চারা উৎপাদন করি। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই এটি বড় আকার ধারণ করে। ১০ কেজি ওজন হলেই এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী হয়ে যায়।”
এই বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়ো সম্পূর্ণভাবে মাটিতেই চাষ করা হয়। আধুনিক হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই এটি এমন বড় আকার ধারণ করতে সক্ষম হয়।
শুধু মিষ্টি কুমড়ো নয়, ওই বিক্রেতার কাছে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের লাউ, ক্যাপসিকাম, কালো মরিচসহ নানা ধরনের সবজির বীজও বিক্রি হচ্ছে।
একজন ক্রেতা বলেন,
“কৌতূহলবশত দেখতে এসেছি। এর আগে এত বড় মিষ্টি কুমড়ো কখনো দেখিনি। শখ করে চারা কিনছি, বাড়িতে লাগিয়ে দেখবো।”
কৌতূহলের বশে অনেকেই দোকানে ভিড় করছেন। কেউ শখ করে বীজ কিনছেন, কেউ আবার চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন- বাংলাদেশের মাটিতে আদৌ কি এত বড় আকারের মিষ্টি কুমড়ো উৎপাদন সম্ভব?
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইব্রিড বীজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত ও নিবন্ধিত বীজ ব্যবহার করা জরুরি। অননুমোদিত বা ভেজাল বীজ ব্যবহার করলে কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে সঠিক বীজ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এমন ব্যতিক্রমী ফলন পাওয়া সম্ভব।



