রেলওয়ে প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্যমূল্য দাবিতে শেরপুরে মানববন্ধন

রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা-এ মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাদ্রা এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, একই এলাকায় অন্য জমির মূল্য শতাংশপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তাঁদের জমির মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র সাত হাজার টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৮৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ৪৭৯ একর এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় ৪২০ একরের বেশি জমি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে মো. রাসেল আহম্মেদ বলেন, “পাশের এলাকার জমির জন্য সরকার শতাংশপ্রতি দেড় লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে, অথচ আমাদের জমির মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র সাত হাজার টাকা। একই এলাকায় জমির ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।”
মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, বর্তমান বাজারে এ এলাকার প্রতি শতাংশ জমির মূল্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কিন্তু অধিগ্রহণের সময় তাঁদের বসতভিটার জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পতিত বা ধানি জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে অনেক কম।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জোছনা বেগম। তিনি বলেন, “আমরা নদীভাঙনের শিকার মানুষ। বহুবার ভিটেমাটি হারিয়ে কষ্ট করে এখানে জমি কিনে বসতি গড়েছি। এখন রেল প্রকল্পের জন্য সেই জমিও চলে যাচ্ছে। কিন্তু যে মূল্য আমাদের দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তাতে নতুন করে বসবাসের জায়গা তৈরি করা সম্ভব নয়।”
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে রেলপথ নির্মাণ প্রয়োজন এবং সরকারের এ উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে উন্নয়নের নামে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না। প্রকৃত বাজারদরের ভিত্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে জমির মূল্য পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও দ্রুত পরিশোধের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা