
নিহত সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের কৃষক শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। শনিবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার।
সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে সম্রাট অস্ত্রাগারের সামনে চেয়ারে বসে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অস্ত্রাগারের বাক্স থেকে নিজের নামে বরাদ্দকৃত চাইনিজ রাইফেলটি বের করেন।
ভোর ৪টা ৪১ মিনিটের দিকে রাইফেলের ব্যারেল মাথার সঙ্গে ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন তিনি। গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত দেখতে পান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া সম্রাটের সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল পূজা দাশের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তোলার কথা ছিল।
তবে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে সম্রাটের মনোমালিন্য চলছিল বলে দাবি পরিবারের। নিহতের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, ভাগ্নে ওই মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। পরিবারের সবাই তার সুখের কথা ভেবে সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সে মানসিকভাবে শান্তিতে ছিল না। সহকর্মীদের কাছ থেকেও প্রায়ই ফোনে ঝগড়ার কথা শুনেছেন বলে জানান তিনি।
সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। সে যা চাইত, পরিবার তা-ই মেনে নিত। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া ছাড়া আত্মহত্যার অন্য কোনো কারণ তারা দেখছেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেন।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সম্রাটের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও আদরের ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা সবিতা বিশ্বাস। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। রাতেই সম্পন্ন করা হয় শেষকৃত্য।
তথ্যসূত্র: সময় নিউজ



