সারাদেশ
প্রধান খবর

শিশু মৃত্যুর পর খানজাহান আলীর দীঘির কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় সেখানে থাকা একমাত্র মাদ্রাজি কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক জানান, মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে কুমিরটিকে সাময়িকভাবে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র-এ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হবে।

ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে খানজাহান আলীর দীঘিতে ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরের বংশধরেরা বসবাস করে আসছিল। তবে একপর্যায়ে তাদের প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিম দিলেও বাচ্চা ফুটছিল না।

পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ভারত সরকার উপহার হিসেবে ছয়টি মিঠা পানির মাদ্রাজি কুমির বাংলাদেশে পাঠায়। সেগুলো দীঘিতে ছাড়ার পর স্থানীয় কুমিরগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকটি কুমির মারা যায় এবং কয়েকটি আহত হয়।

আহত দুটি ঐতিহ্যবাহী কুমিরকে চিকিৎসার জন্য সুন্দরবনের প্রজনন কেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে অন্যান্য কুমিরও মারা গেলে দীঘিতে কেবল একটি মাদ্রাজি কুমিরই অবশিষ্ট থাকে।

মাজারের প্রধান খাদেম তারিকুল ইসলাম বলেন, কুমিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কুমিরটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন সময় মানুষ ও প্রাণীর ওপর হামলা করেছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে কুমিরটি নিরাপদে ধরার ও স্থানান্তরের কারিগরি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাতেমা আক্তার (৮) নামে এক শিশু মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নামে। এ সময় কুমিরটি তাকে আক্রমণ করে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ভোরে দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে দীঘির পূর্ব পাড়ে তাকে দাফন করা হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।

তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button