ফার্মেসি থেকে ছয় টুকরো উদ্ধার হওয়া জোৎস্নাকে দলবেধে ধর্ষণের পর হত্যা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অভি মেডিক্যাল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার ছয় টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জোৎস্নাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ওষুধের দোকানের মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ (৩০), অনজিৎ চন্দ্র গোপ (৩৮) ও অসীত গোপ (৩৬)।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে জিতেশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিছুদিন ধরে গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ জন্য সেদিন বিকেলে জিতেশের ফার্মেসিতে এলে জোৎস্নাকে ফার্মেসির ভেতরে প্রাথমিক চিকিৎসাকক্ষে বসিয়ে রাখা হয় ভিড় কমলে তার সঙ্গে কথা বলে ওষুধ দেয়া হবে বলে।
সিআইডিকে জিতেশ আরো জানায়, তার বন্ধু মুদি দোকানদার অনজিৎ এবং পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীতকে ফার্মেসিতে বসিয়ে রাখা জোৎস্নার কথা বললে তারা তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। এরপর জিতেশ জোৎস্নাকে চিকিৎসার কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ফার্মেসির ভেতর ঘুম পাড়িয়ে রেখে তালা দিয়ে চলে যান।
আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ হলে গভীর রাতে তারা তালাবদ্ধ ফার্মেসি খুলে ভেতরে ঢুকে এনার্জি ড্রিংকস পান করে জোৎস্নাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিষয়টি জোৎস্না প্রকাশ করার কথা বললে আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে সিআইডি জানায়।
ভুক্তভোগীর পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে, বিশ্রামকক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখে চেপে ধরে হত্যা করার কথা সিআইডিকে জানায় তারা।
সিআইডি জানিয়েছে, এরপর লাশ গুমের জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং বুকপেটসহ ছয়টি অংশে বিভক্ত করে তারা। সুবিধাজনক সময়ে লাশের খণ্ডিত অংশগুলো মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের আবদুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামে একটি ওষুধের দোকান থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছুরুক মিয়ার স্ত্রী। লাশ উদ্ধারের দিনই জিতেশ চন্দ্র গোপের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন জোৎস্নার ভাই হেলাল আহমেদ।
এসএ



