নির্বাচন
প্রধান খবর

৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে মোট ৫টি ভাগে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ার‌ম্যান তারেক রহমান এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এটিই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার

ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয়ে আগামী পাঁচ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। বিএনপি জানায়, ক্ষমতায় গেলে ঘোষিত ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে দলটি।

৫টি ভাগে ইশতেহার

ইশতেহারকে পাঁচটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে-
১. রাষ্ট্রসংস্কার
২. বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রগঠন
৩. ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন
৪. আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন
৫. ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি

এই পাঁচটি বিভাগের আওতায় মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির ৯ প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

১. ফ্যামিলি কার্ড
প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। এই সহায়তার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষক কার্ড
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’র মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, খামারি ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সুবিধা পাবেন।

৩. স্বাস্থ্যখাত সংস্কার
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ।

৪. শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন
বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং মিড-ডে মিল চালু।

৫. তরুণদের কর্মসংস্থান
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্সে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ

৬. ক্রীড়াখাত উন্নয়ন
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ।

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু
২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি
সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি
আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ।

‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি। দলটি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। লুটপাট নয় উৎপাদন, ভয় নয় অধিকার, বৈষম্য নয় ন্যায্যতা-এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করা হয়।

ক্ষমতায় এলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না

ইশতেহারের ৩ মৌলিক ভিত্তি

ইশতেহার প্রণয়নে তিনটি মৌলিক ভিত্তির কথা উল্লেখ করা হয়-

  • শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন,
  • বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০,
  • এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা

উপস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিচালনায় ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, মিডিয়া প্রতিনিধিসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা

পটভূমি

এর আগে পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলটির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হওয়ায় বিএনপি তা বয়কট করে

তথ্যসূত্র: কালবেলা

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button