
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সংসদীয় ২৯৯ আসনের ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শনিবার এই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যালট বুঝে নিয়েছেন বলে ইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইসির ব্যালট বিতরণ শাখার উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই ব্যালট মুদ্রণ শুরু হয়। যে আসনের ব্যালট মুদ্রণ শেষ হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে সেসব ব্যালট সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত একটি জেলা ছাড়া সব জায়গায় ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন হয়। রোববার সকালে সেই একটি জেলায় ব্যালট পাঠানোর মধ্য দিয়ে জেলাভিত্তিক ব্যালট বিতরণ পুরোপুরি শেষ হবে।
তিনি বলেন, ব্যালট পৌঁছানোর পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেখান থেকে স্ব-স্ব সংসদীয় আসনে ব্যালট পাঠাতে পারবেন। চাইলে তারা রোববার থেকেই আসনভিত্তিক ব্যালট বিতরণ শুরু করতে পারবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, আইনে পোস্টাল ব্যালটের বিধান থাকলেও এতদিন তা কার্যকর ছিল না। এবারই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা, কারাবন্দী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কমিশন। এ জন্য চালু করা অ্যাপে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৯ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান করেছেন, যেসব ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।
পোস্টাল ব্যালটের বাইরে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটার। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট মুদ্রণ সম্পন্ন করে শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। আজ রোববার থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব ব্যালট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে বিতরণ করবেন।
নির্বাচন সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা এআরওদের কাছ থেকে ব্যালট ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী বুঝে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, তার জেলায় সব আসনের ব্যালট তিনি বুঝে পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট এআরওদের কাছে ব্যালট বিতরণ শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন, তাদের নাম সম্পূরক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পোস্টাল ভোটারদের বাদ দিয়ে কেবল কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতেই ব্যালট মুদ্রণ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা



