
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন বিএনপি ও জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ও প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন
বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করবে বিএনপি।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এই কথা জানান বিএনপি প্রধান।
তিনি বলেন, “দেশের অর্ধেকের বেশি জনশক্তি নারী শক্তিকে রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতির মূল ধারার বাইরের রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশে মোট চার কোটি পরিবার রয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে”।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শিক্ষিত তরুণ তরুণীদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ একবছর কিংবা কংসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে”।
“আমরা মনে করি এই বেকার ভাতা একজন শিক্ষিত বেকারকে সে উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে”, যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের হারানো রাজনৈতিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি বড় সুযোগ। দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে”।
বিএনপি নেতা বলেন, “প্রতিটি সেক্টর ও প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি”।
বেকার সমস্যা সমাধানে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক বীমা পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে”।
তিনি বলেন, “এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কয়েকটি সেক্টরকে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান তৈরির উপায় এবং কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা হবে”।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন
জায়ামাতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির।
এ সময় তিনি বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের কথা তুলে ধরে বলেন, নানা বৈষম্যের কারণে জুলাই হয়েছিল”।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী। কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে। এই সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না। এই হিম্মত দেখিয়েছে আবরার ফাহাদ, মুগ্ধ আবু সাঈদ, ওসমান হাদিরা।
শফিকুর রহমান বলেন, “দেশকে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বদলাতে চাই। দেশে শান্তি ফিরে আসুক। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই”।
এই ভাষণে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন কেবলমাত্র গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিলেই এই পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ কেমন বাংলাদেশ চায় সেটা দেশের মানুষকেই ঠিক করতে হবে।
কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাতে চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার ঘোষণাও দেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বিচার বিভাগকে আমূল পরিবর্তন, সৎ ব্যক্তিদের বিচারকে আসনে বসানো ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ জামায়াত ইসলামী।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা



