
ভারতের তেল শোধনাগারগুলো সীমিত পরিমাণে ইরানি তেল কিনছে এবং এসব ক্রয়ের অর্থ চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল থাকার সুযোগে ভারত এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে আইসিআইসিআই (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন) ব্যাংকের মাধ্যমে।
এ বিষয়ে ভারত সরকার বলেছে, এ ধরনের লেনদেন সম্পূর্ণ নিয়মের মধ্যেই রয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের দেওয়া ছাড়ের পরই এই ক্রয় শুরু হয়। ওই ছাড়ের ফলে দেশগুলো সমুদ্রপথে রাশিয়া ও ইরানের তেল কিনতে পারছে, যাতে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখা যায়।
রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ের মেয়াদ বাড়ালেও, ইরানি অপরিশোধিত তেলের ওপর দেওয়া ছাড় আগামীকাল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই সুবিধা আর বাড়ানো হবে না।
অর্থ পরিশোধের জটিলতার কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা পিছিয়ে গেলেও, কিছু শোধনাগার সমুদ্রপথেই লাখ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত বছরের মধ্যে ভারতের প্রথম ইরানি তেল ক্রয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ‘জয়া’ নামের একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারে (ভিএলসিসি) করে ২০ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার। পাশাপাশি ইরানি তেলবাহী আরও চারটি জাহাজকে ভারতে ভিড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এসব তেল ক্রয়ের অর্থ পরিশোধ করছে ইউয়ানে। এ বিষয়ে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এতে অপরাধমূলক কিছু নেই। তার ভাষায়, “আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা। আমাদের তেল বিপণন সংস্থাগুলো নিয়ম মেনেই কাজ করছে।”
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সুজাতা শর্মাও বলেন, “আমাদের তেল বিপণন কোম্পানিগুলো নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।”
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হওয়া হরমুজ প্রণালি ইরান সংঘাতের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। তবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা



