
এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর দেশটিতে অবস্থান করতে হবে না। নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন তারা।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস- ইউএসআইএস।
সংস্থাটি জানায়, যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান, তারা দেশের বাইরে থেকেই কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো বিদেশি এই বিশেষ সুবিধার যোগ্য কিনা, তা নির্ধারণের সময় প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষাধিক মানুষ শিক্ষার্থী, পর্যটক, দর্শনার্থী কিংবা কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তাদের অনেকেরই লক্ষ্য থাকে পরে গ্রিনকার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া।
এতদিন অস্থায়ী ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে পারতেন। “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে আবেদনকারীরা নিজ দেশে ফিরে অস্থায়ী ভিসার নথি প্রদর্শনের মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন। নতুন এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে “এক্সট্রা-অর্ডিনারি ফর্ম অব রিলিফ”।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
গত দেড় বছরে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক নথিবিহীন অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক অভিবাসীকে বিশেষ বন্দিশালায় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০টি দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভিসা প্রদানের হারও কমানো হয়েছে।
মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীর সংখ্যা কমাতেই এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট
