
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এ তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে সারাদেশের জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। দেশের নিবন্ধিত ক্লাবগুলোকে সরকারি ক্ষমতার মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয় এবং হাইকোর্টে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ক্রিকেট বোর্ডের একটি বডি গঠন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ক্রীড়া মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়ম খুঁজে বের করার জন্য। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, সেখানে যথেষ্ট অনিয়ম হয়েছে। এরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি। এতদিন পর্যন্ত শুনতাম ‘মায়ের দোয়া পরিবহন’ আছে, আজকে মাননীয় সদস্যের কল্যাণে দেখলাম ‘বাপের দোয়া কমিটিও’ আছে।”
এর আগে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।
এদিকে একই দিন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। বিলের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট তারা মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। পুরো বিষয়টি পড়ার সুযোগ পাননি। এটি স্পর্শকাতর আইন হওয়ায় বিলটি পাসের আগে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সেই সময় আপত্তি জানানো হলে তা বিবেচনা করা যেত। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি সংসদে পাস করার প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
সূত্র: চ্যানেল ২৪



