অন্যান্য
প্রধান খবর

সাইবেরিয়ান বিড়ালের বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খাপ খাওয়া ও যত্ন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। তবে তার এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে-বিশেষ করে তার পোষা বিড়াল **‘জেবু’**কে ঘিরে।

চলতি বছরের শুরুতে তারেক রহমানের মোবাইল ফোনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা জেবুর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে আরও একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও বিড়ালপ্রেমীদের মধ্যে জেবুকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়।

জেবু কোন জাতের বিড়াল

জেবু হলো সাইবেরিয়ান জাতের লোমশ বিড়াল, যা রাশিয়ার প্রাকৃতিক ও প্রাচীন জাতের মধ্যে অন্যতম। এই জাতের বিড়ালের লোম তিন স্তরের-গার্ড হেয়ার, অ্যান হেয়ার ও ডাউন হেয়ার। এই তিনটি স্তর মিলেই তৈরি হয় একটি সু-বিকশিত জলরোধী ট্রিপল কোট

ঘন লোম, শক্তিশালী শরীর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্নেহপ্রবণ স্বভাবের জন্য সাইবেরিয়ান বিড়াল আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। লোম থেকে উৎপন্ন অ্যালার্জেন তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি অনেক অ্যালার্জি আক্রান্ত মানুষের কাছেও হাইপোঅ্যালার্জেনিক বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়।

রঙিন লোমের সুদর্শন প্রজাতি

সাইবেরিয়ান বিড়াল চটপটে ও বন্ধুত্বপূর্ণ। পেছনের অংশ শক্ত, পা বড়, লেজ পুরু এবং শরীর মাঝারি থেকে বড় আকৃতির। গঠন সাধারণত গোলাকার ও মজবুত।

চোখের রং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবুজ, সোনালি বা তামাটে হলেও সাদা বা দাগযুক্ত সাইবেরিয়ানের ক্ষেত্রে নীল বা বিভিন্ন রঙের চোখও দেখা যায়। কালো বা বাদামি ম্যাকেরেল ট্যাবি সবচেয়ে সাধারণ রঙ। এছাড়া সাদা, নীল, লাল ও ক্রিম রঙের সাইবেরিয়ান বিড়ালও পাওয়া যায়। এই জাতের বিড়ালের গড় আয়ু ১০ থেকে ১৮ বছর।

পরিবারের জন্য আদর্শ বিড়াল

সাইবেরিয়ান বিড়াল শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, মানসিক প্রশান্তির জন্যও পরিচিত। শান্ত, বন্ধুসুলভ ও পরিবারপ্রিয় স্বভাবের কারণে এটি পোষা প্রাণী হিসেবে আদর্শ। শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে এবং ঘরের পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

সাইবেরিয়ান বিড়ালের ইতিহাস কমপক্ষে এক হাজার বছরের পুরোনো। ১৯৯০ সালে প্রথমবার এই জাতের বিড়াল যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে International Cat Association (টিআইসিএ) সাইবেরিয়ান জাতকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে American Cat Fanciers Association (এসিএফএ) এবং ২০০৬ সালে Cat Fanciers’ Association (সিএফএ) এই জাতকে গ্রহণ করে। এসব স্বীকৃতি সাইবেরিয়ান বিড়ালের প্রজনন, স্বাস্থ্য ও বৈশিষ্ট্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।

দাম কেমন

সাইবেরিয়ান বিড়ালের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। বাংলাদেশে সাধারণত একটি সাইবেরিয়ান ক্যাট বা কিটেনের দাম ১.৫ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দাম নির্ভর করে বিড়ালের রং, বয়স, জেনেটিক লাইন, ভ্যাকসিনেশন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর। সাধারণত রেজিস্টার্ড ও প্রিমিয়াম ব্রিডারদের কাছ থেকে নেওয়া বিড়াল এই দামের মধ্যেই পড়ে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উপযোগী কি না

ঘন ট্রিপল কোটের কারণে সাইবেরিয়ান বিড়াল মূলত ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য উপযোগী। তবে সঠিক যত্ন নিলে বাংলাদেশেও তারা মানিয়ে নিতে পারে। গ্রীষ্মে অতিরিক্ত গরম এড়াতে ঘরের ভেন্টিলেশন ভালো রাখা, শীতল জায়গার ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিত ব্রাশিং জরুরি।

আর্দ্র আবহাওয়ায় চুলকানি বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় লোমের যত্ন, প্রয়োজনে হালকা ট্রিম এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন। শীতকালে অবশ্য এই ঘন লোম বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য বেশ আরামদায়ক।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য জরুরি

সাইবেরিয়ান বিড়ালের লোম ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স অনুযায়ী মানসম্মত ক্যাট ফুড নির্বাচন করা উচিত। খাবার নির্ধারণে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিষ্কার পানি সবসময় সরবরাহ করতে হবে। দিনে দুই থেকে তিনবার পরিমিত খাবার দেওয়া উত্তম। সারাদিন খাবার ফেলে রাখলে ওজন বাড়তে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যায় সাইবেরিয়ান বিড়াল সুস্থ, সক্রিয় ও প্রাণবন্ত থাকে।

তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button