১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে
২০ জানুয়ারির আগেই আসন বণ্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, কিছু আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এই নির্বাচনে বড় একটি রাজনৈতিক ব্লকের নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। জোটে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ একাধিক ইসলামপন্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক দল।
জামায়াতের জন্য ১৯০ আসন, শরিকদের জন্য ১১০
প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামী নিজের জন্য ১৯০টি আসন রেখে বাকি ১১০টি আসন শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের পরিকল্পনা করেছে। তবে দাবির তুলনায় কম আসন পাওয়ার আশঙ্কায় কয়েকটি দল ইতোমধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য আসন বণ্টন
খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী—
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (পীর সাহেব চরমোনাই): ৪০টি আসন (আরও আসনের দাবি রয়েছে)
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): প্রায় নিশ্চিতভাবে ৩০টি আসন
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ১৫টি আসন
- খেলাফত মজলিস: ৭টি আসন
- এলডিপি (কর্নেল (অব.) অলি আহমদ): ৭টি আসন
- এবি পার্টি ও বিডিপি: প্রাথমিকভাবে ২টি করে আসন (আলোচনা চলমান)
অসন্তোষ ও মতপার্থক্য
আসন বণ্টন নিয়ে জোটের ভেতরে এখনো কিছু অস্পষ্টতা ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানিয়েছেন, মাত্র ২-৩টি আসনে সমঝোতার প্রস্তাব তাদের কাছে আশাব্যঞ্জক নয়। দলটি অন্তত ১০টি আসনের দাবি জানিয়েছে।
একইভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ২৫ থেকে ৩০টি আসন প্রত্যাশা করছে। এ বিষয়ে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শেষ মুহূর্তে দু-একটি আসন বাড়তে পারে।
বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত
যেসব আসনে সমঝোতা সম্ভব হবে না, সেখানে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না জোট নেতারা। তবে মূল লক্ষ্য হলো—ভোট বিভাজন রোধ করে প্রতিটি আসনে একজন শক্তিশালী অভিন্ন প্রার্থী নিশ্চিত করা।
শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণা
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই শরিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষ হবে এবং চূড়ান্ত আসন তালিকা প্রকাশ করা হবে। সমঝোতা চূড়ান্ত হলে অতিরিক্ত প্রার্থীরা ২০ জানুয়ারির মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।
সূত্র: প্রথম আলো



