
সতীর্থদের একের পর এক বিদায়, একপ্রান্তে উইকেটের পতন তবু থামেননি তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। তাঁর ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে ফলোঅনের শঙ্কা কাটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে একাই যেন লড়াই চালিয়ে গেলেন তাওহিদ হৃদয়। একের পর এক সতীর্থকে হারিয়েও নিজের জায়গায় অবিচল ছিলেন এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ে সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১১১.৫ ওভার ব্যাট করে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৩৫৬ রান। ফলে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া হৃদয় ইনিংসটিকে নিয়ে গেছেন ডাবল সেঞ্চুরি পর্যন্ত। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে উপহার দিয়েছেন দেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস।
আড়াইশ রানের মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে অপরাজিত থাকতে হয়েছে ২৪২ রানে। ১০০তম ওভারের প্রথম বলে ওয়ারিক্যানকে লং অন দিয়ে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। মাইলফলক স্পর্শ করেই ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন করেন, এরপর সেজদায় অবনত হয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশার। একের পর এক উইকেট হারিয়ে একটা সময় ১৮৪ রানেই ৭ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাট করতে না পারায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
এমন অবস্থায় তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ২২ রান করে তাইজুল ফিরলেও থামেনি হৃদয়ের লড়াই।
এরপর তাসকিন আহমেদকে সঙ্গী করে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ১২ রান করে তাসকিন জেইডন সিলসের বলে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। তবে অপরাজিত থেকে যান হৃদয়।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে একাধিক অর্জন নিজের করে নিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই প্রথম দেড়শ এবং প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের নতুন রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।
সবচেয়ে বড় বিষয়, দলের চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
একসময় যে ইনিংসে ফলোঅনের শঙ্কা ছিল, সেই ইনিংসই শেষ হয়েছে প্রতিপক্ষের চেয়ে ৩০ রানের লিড নিয়ে।
সতীর্থরা ফিরেছেন একে একে, কিন্তু থামেননি হৃদয়। সিলেটে তাঁর ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস হয়ে থাকবে।



