বাংলাদেশ
প্রধান খবর

ব্যাটারির রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলার চলাচলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস রুটে এসব ধীরগতির যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। নীতিমালাটি দেশের সব সিটি করপোরেশনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ই-রিকশা কোনোভাবেই মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাসের প্রধান রুট, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর, ফুটপাত কিংবা এ ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে-এমন সড়কে চলতে পারবে না।

সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে এবং ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে সিটি করপোরেশনগুলো তাদের এলাকায় কতসংখ্যক ই-রিকশা চলবে, তা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট রুট, চলাচলের জোন ও গাড়ির রং নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

একটি নির্দিষ্ট জোনের জন্য অনুমোদিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না। একইভাবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

নিবন্ধন ফি ও মেয়াদ

নতুন নীতিমালায় দুই যাত্রীর ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। চার যাত্রীর রিকশার ক্ষেত্রে এ ফি ১০ হাজার টাকা। নিবন্ধন নবায়নে বার্ষিক ফি দিতে হবে যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা।

প্রতিটি নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধিত গাড়ির জন্য ইউনিক কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর, নম্বরপ্লেট এবং গাড়ির বিস্তারিত তথ্যসহ একটি ব্লু বুক দেওয়া হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।

সব ই-রিকশাকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। বর্তমানে চলাচল করা রিকশাগুলো কাঠামোগত পরিবর্তনের পর ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এবং ট্রাফিক বিভাগের সনদ পেলে অনুমোদন পেতে পারে।

গতিসীমা ও যাত্রী বহনের নিয়ম

ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হবে।

নকশা অনুযায়ী, চালক ছাড়া এসব রিকশায় দুই থেকে সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। ই-রিকশা সড়কের বাম লেন দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

রিকশা চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভুলভাবে ওভারটেক কিংবা নিয়ম ভেঙে লেন পরিবর্তন করা যাবে না। ৪০ ডেসিবলের বেশি মাত্রার হর্ন বাজানোও নিষিদ্ধ। এ ছাড়া যাত্রীদের হাতব্যাগ ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য ই-রিকশায় বহন করা যাবে না।

প্রতিটি রিকশায় গতি পরিমাপের মিটার থাকতে হবে। নিবন্ধনের দিন থেকে একটি ই-রিকশার আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। এরপর এর নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, শুধু সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত নির্দিষ্ট গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্টে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে।

নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা ই-রিকশা-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button