প্রাক্তনকে বার্তা পাঠানোর দিন আজ, যোগাযোগের আগে যা ভাববেন

সম্পর্ক ভাঙার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সহজ নয়। যে মানুষটির সঙ্গে একসময় ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও জীবনের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া হতো, বিচ্ছেদের পর তিনিই হয়ে যান অতীত। সময়ের সঙ্গে সেই কষ্ট অনেকটাই কমে আসে। তখন মনে হতে পারে, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তবু কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রে থেকে যায় না বলা কথা, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অনুশোচনা। কখনো পুরনো সঙ্গীর সঙ্গে আবার কথা বলার ইচ্ছাও জাগে। সেই ভাবনা থেকেই ‘টেক্সট ইওর এক্স ডে’ বা ‘প্রাক্তনকে বার্তা পাঠানোর দিন’-এর প্রচলন।
প্রতি বছর আজকের দিনটি পুরনো সম্পর্কের কথা মনে করা এবং প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার উপলক্ষ হয়ে আসে। কেউ কৌতূহল থেকে জানতে চান, প্রাক্তন সঙ্গী কেমন আছেন। কেউ অতীতে পাওয়া আঘাতের কথা জানাতে চান, আবার কেউ সম্পর্কের সুন্দর মুহূর্তগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান। বিচ্ছেদের পর অসমাপ্ত কথার ইতি টানা কিংবা মনের মধ্যে জমে থাকা অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ হিসেবেও দিনটিকে দেখেন অনেকে।
বার্তা আদানপ্রদানের ইতিহাস
বর্তমানে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা প্রিয়জন-সবার সঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যায়। অথচ কয়েক দশক আগেও এমন সুযোগ ছিল না। তখন কারও সঙ্গে কথা বলতে হলে সরাসরি ফোন করতে হতো। দূরে থাকলে চিঠির ওপরও নির্ভর করতে হতো।
সংক্ষিপ্ত বার্তা আদানপ্রদানের প্রযুক্তি, যা এসএমএস নামে পরিচিত, আশির দশকে বিকশিত হতে শুরু করে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে কম্পিউটার থেকে ভোডাফোনের একটি মুঠোফোনে প্রথম বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটিতে লেখা ছিল ‘মেরি ক্রিসমাস’। এরপর প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে ওঠে। সেই প্রযুক্তিই আজ প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগের মতো ব্যক্তিগত বিষয়েও নতুন একটি উপলক্ষ তৈরি করেছে।
কেন প্রাক্তনকে বার্তা পাঠানোর কথা ভাববেন?
বিচ্ছেদের পরও অনেক সময় মনে নানা প্রশ্ন থেকে যায়। কিছু কথা বলা হয়নি, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়নি, কিংবা নিজের কোনো আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা রয়ে গেছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে প্রাক্তন সঙ্গীকে একটি ছোট বার্তা পাঠিয়ে সেই কথাগুলো জানানো যেতে পারে। জানতে চাওয়া যায়, তিনি কেমন আছেন। অতীতে তাঁর কোনো আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকলে নিজের অনুভূতির কথাও বলা যায়। আবার নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার সুযোগও হতে পারে এটি।
কেউ কেউ পুরনো সম্পর্কের ভালো দিকগুলো মনে করে কৃতজ্ঞতা জানাতে চান। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাশে থাকার জন্য প্রাক্তন সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানানোও হতে পারে বার্তার উদ্দেশ্য।
বার্তা পাঠানোর আগে ভাবুন
প্রাক্তনকে বার্তা পাঠানোর আগে নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। আবার সম্পর্কে ফিরতে চান, ক্ষমা চাইতে চান, নাকি শুধু পুরনো কোনো কথার ইতি টানতে চান-সেটি আগে বুঝে নিন। কারণ, উদ্দেশ্য অস্পষ্ট থাকলে দুজনের মধ্যে নতুন করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
বার্তা পাঠানোর পর প্রত্যাশামতো উত্তর নাও আসতে পারে। প্রাক্তন সঙ্গী উত্তর না-ও দিতে পারেন, কিংবা তাঁর উত্তর আপনার মনের মতো না-ও হতে পারে। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। মন খারাপ, একাকিত্ব কিংবা সাময়িক আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের অনুভূতি স্থির হওয়ার জন্য সময় দিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পর্কের অতীত কেমন ছিল, তা মনে রাখা। যে সম্পর্কে অসম্মান, প্রতারণা, মানসিক আঘাত কিংবা নিরাপত্তার অভাব ছিল, সেখানে নতুন করে যোগাযোগ করা সব সময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। নিজের মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
পুরনো প্রেমের স্মৃতি মনে করে প্রাক্তনকে বার্তা পাঠাতে ইচ্ছে করলে আগে কাছের কোনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সম্পর্কের বাইরে থাকা বন্ধুরা অনেক সময় পরিস্থিতিকে তুলনামূলক নিরপেক্ষভাবে দেখতে পারেন। কেন বিচ্ছেদ হয়েছিল, সেই কারণগুলো তাঁরা মনে করিয়ে দিতে পারেন। আবেগের মুহূর্তে যে বিষয়গুলো ভুলে যেতে বসেছেন, বন্ধুর সঙ্গে কথা বললে সেগুলো আবার স্পষ্ট হতে পারে।
বন্ধুর পরামর্শ শুনে নিজের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবার সুযোগও মিলবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আপনারই। প্রাক্তনকে বার্তা পাঠানো মানেই পুরনো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা নয়। কখনো যোগাযোগ করে মনের ভার কমানো যায়, আবার কখনো কোনো বার্তা না পাঠিয়েও অতীতকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



