
আদালতের বিভিন্ন আদেশের ভিত্তিতে গত জানুয়ারি মাসে দেশে ও বিদেশে মোট ২ হাজার ২৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
আদালতের আদেশের ভিত্তিতে পদক্ষেপ
দুদক জানায়, জানুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের ভিত্তিতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তালিকা কমিশনে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২২টি আদেশে সম্পদ ক্রোক এবং ১১টি আদেশে সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ সম্পদ
মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে-
- ৬৯.২৬ একর জমি
- ৪টি ভবন
- ৬টি ফ্ল্যাট
- ২টি দোকান
- ১টি বাণিজ্যিক স্পেস
- ১টি এফডিআর
- ৬টি গাড়ি
- ১টি বীমা পলিসি
ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৩ টাকা।
এছাড়া ৭৯টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাবে ৮ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৩ টাকা স্থিতি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ২টি বিও হিসাব ও ১২ লাখ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৩১৩ টাকা।
বিদেশে বিপুল সম্পদ ক্রোক
একাধিক দেশে স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে-
- যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি ফ্ল্যাট
- ফিলিপাইনে ২টি ফ্ল্যাট
- ভারতে ৯টি ফ্ল্যাট
- মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্পেস
- কম্বোডিয়ায় ১১৭টি সম্পদ
- থাইল্যান্ডে ২৩টি সম্পদ
- সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি সম্পদ
- সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে ৩৩টি অ্যাপার্টমেন্ট
বিদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ এসব সম্পদের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকা ২০ পয়সা। এছাড়া ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগ (বাংলাদেশি মূল্য ১ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা) ক্রোক করা হয়েছে।
অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ
প্রতিবেদন অনুযায়ী-
- ৪৬৭ জনের বিরুদ্ধে ৭৬টি এফআইআর
- ১১০ জনের বিরুদ্ধে ৩৬টি চার্জশিট
- ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়ে ৯টি ফাইনাল রিপোর্ট
- ৯২টি নতুন অনুসন্ধান
- ১৯টি পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি ৩৮টি সম্পদ বিবরণীর আদেশ জারি করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ চিহ্নিতকরণ, জব্দ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা



